ডেঙ্গু হলে আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই জরুরি

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য

2026-09-13T12:07:03+06:00
2026-09-13T12:07:03+06:00
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
স্বাস্থ্য
ডেঙ্গু হলে আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই জরুরি
স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সময়মতো সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তবে জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ
ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ তীব্র জ্বর। সাধারণত ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকার পাশাপাশি ঘাম দিয়ে কমে গিয়ে আবারও ফিরে আসতে পারে।

এ ছাড়া সারা শরীরে ব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। অনেকের শরীরে লালচে ছোপ বা ফুসকুড়িও দেখা দেয়। তবে র‍্যাশ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

জ্বর হলে কী করবেন
ঋতু পরিবর্তনের সময়ে হঠাৎ জ্বর এলে সেটিকে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি না থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অতিরিক্ত হাঁটা বা পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না দেওয়ার জন্য প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন উপকারী হতে পারে।

ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা
জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে লিভার, হার্ট বা কিডনির জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু হলে অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রক্তে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গেলেও নিজে থেকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে
ডেঙ্গুর তীব্রতা অনুযায়ী রোগীর অবস্থা তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়।

ক্যাটাগরি ‘এ’-এর রোগীদের সাধারণত শুধু জ্বর থাকে এবং তারা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন। এ ধরনের রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই; বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

ক্যাটাগরি ‘বি’-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পেটে ব্যথা, ঘন ঘন বমি অথবা দুই দিন জ্বর থাকার পর শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত।

ক্যাটাগরি ‘সি’ হলো ডেঙ্গুর সবচেয়ে জটিল বা গুরুতর পর্যায়। এ অবস্থায় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে হতে পারে।

এডিস মশা থেকে বাঁচতে যা করবেন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা জরুরি। এডিস মশা সাধারণত অন্ধকার পছন্দ করে না এবং অন্ধকারে কামড়ায় না। সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার ঠিক আগের সময়ে এ মশার তৎপরতা বেশি থাকে।

এডিস মশা স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির ছাদ বা বারান্দার ফুলের টব, ফ্রিজ কিংবা এসির নিচে, অব্যবহৃত পাত্র এবং নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব জায়গায় নিয়মিত নজর রাখতে হবে। কোনো পাত্রে যেন তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

সময়মতো সচেতনতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রয়োজনীয় তরল গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
স্বাস্থ্য - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]