ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার

জবাবদিহি ডেস্ক

স্বাস্থ্য

2026-09-09T16:46:48+06:00
2026-09-09T16:46:48+06:00
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
স্বাস্থ্য
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের মার্চ থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়েছে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার নির্দেশনাও রয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহযোগিতায় ডেঙ্গু চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইনও হালনাগাদ করা হয়েছে।

বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে দেশের সব সিভিল সার্জনকে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

সরকারের নির্দেশনার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন, ওষুধ ও ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের ঘাটতি দেখা দিলে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে জুম মিটিং করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি এবং যেখানে সম্ভব সেখানে তাদের জন্য নির্ধারিত শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শয্যা সংকট তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে কোনো ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণের কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে সব সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

সম্ভাব্য ডেঙ্গু মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সমন্বয় করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম টাস্কফোর্সটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিত জাতীয় কমিটিকে জানানো। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস এবং হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
স্বাস্থ্য - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]