বাড়ছে সরকারি খাদ্য মজুত, পাঁচ বছরে সক্ষমতা হবে ৩৪ লাখ টন

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-12T11:22:33+06:00
2026-09-12T11:22:33+06:00
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
বাড়ছে সরকারি খাদ্য মজুত, পাঁচ বছরে সক্ষমতা হবে ৩৪ লাখ টন
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। ৯ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ প্রায় সাত মাসে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট মজুতের মধ্যে চাল রয়েছে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন এবং ধান ৩৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। ফ্লোটিং মজুতসহ সরকারি খাদ্যশস্যের মোট পরিমাণ ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে গম রয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন।

শুধু মজুত বাড়ানো নয়, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগে দেশে সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

এর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ডও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্যকে নিরাপদ মজুতসীমা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার এই সীমা বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব নীতির কারণে বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মজুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ছিল ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন এবং গম ১ লাখ ৭৭ হাজার টন। সেই তুলনায় বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন।

২০২৪ সালের একই সময়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে মজুত বৃদ্ধির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ওই বছর দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন। সে হিসাবে ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমান মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন।

বোরো সংগ্রহেও অগ্রগতি
চলতি বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন। এ ছাড়া ৫২৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে।

খাদ্যশস্যের ঘাটতি মোকাবিলা এবং সরকারি মজুত শক্তিশালী রাখতে আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সংগ্রহ, আমদানি ও মজুত-সব ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে নিয়মিতভাবে মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফল ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মজুত শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

আমনে ভালো ফলনের আশা
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, এবার দেশে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে সরকার আশাবাদী। বোরো মৌসুমের মতো আমন সংগ্রহেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম পর্যায়ক্রমে বাড়ছে উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, এতে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তবে গমের পরিবর্তে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চাল দেওয়ার বিকল্প পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্য নিয়ে কোনো সংকট বা সমস্যার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান। খাদ্য নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

৩৪ লাখ টন সংরক্ষণ সক্ষমতার লক্ষ্য
খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণ ও খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ সারাদেশে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ও চালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

জামাল হোসেন বলেন, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন, আগে দেশে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সরকারি খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

জামাল হোসেন আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন হিসেবে বিবেচিত হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার এই লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, বাজারে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মজুত ও সংগ্রহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]