সরকারি অর্থের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের একটি টাকাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় করা যাবে না-প্রধানমন্ত্রী এমন নীতি অনুসরণ করছেন। এ কারণে ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও তিনি ব্যয় সাশ্রয়ের চেষ্টা করছেন।
গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
প্রধানমন্ত্রীর পোশাকের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।’
তার দাবি, জনগণের করের অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনযাপন থেকে শুরু করে সরকারি কার্যক্রম-সব ক্ষেত্রেই ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
সরকারি কাজে ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে যাতায়াত কমিয়েছেন, নিজের গাড়ি ও লোকবহর কমিয়েছেন এবং নিজের অফিসেই খাবারের ব্যবস্থা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবারের ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা করেন নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। তার ১৫০ টাকা বিল, একজনের।’
আগের সরকারের নেওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা ও তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, কোনো এমপি বা মন্ত্রী সরকারি কাজে বাইরে গিয়ে ব্যয়ের হিসাব দিলে শুধু মৌখিকভাবে তা গ্রহণ করা হবে না। ব্যয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের একটি টাকাও অপচয় না হয়।
চিফ হুইপ বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, আপনাদের টাকা শেখ হাসিনা নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ লোক দেখানো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নুরুল ইসলাম মনির ভাষায়, ‘এই কাজ ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে।’
জ/উ