বয়স ৯১ বছর। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে স্বামী, সন্তান, নাতি-নাতনিসহ একে একে অনেক আপনজনকে হারিয়েছেন সুবেরেন্নেছা। বয়সের ভারে এখন হাঁটতে পারেন না, নিজের দৈনন্দিন কাজও করতে পারেন না।
নেত্রকোণা পৌরসভার পারলা এলাকায় একটি বাড়িতে বিছানায় শুয়েই দিন কাটছে তাঁর। প্রায় চার দশক আগে স্বামী মনতাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সন্তানদের নিয়ে সংসার চালিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মারা যাওয়ার পর পুত্রবধূ জুলেখা খাতুনের ওপর পড়ে সংসারের দায়িত্ব। এরপর ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি পরিবারের আরেক সন্তান আব্দুল জলিল মাত্র ৪০ বছর বয়সে মারা যান।
তিনি স্ত্রী রওশানারা বেগম ও দুই সন্তান রেখে যান। জলিলের বোন শিল্পীও স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকছেন। ফলে একই বাড়িতে এখন স্বামীহারা চার নারী ও তাঁদের সন্তানসহ মোট সাতজনের সংসার। জুলেখা খাতুন ও শিল্পী মানুষের বাড়িতে কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই খাবার, অসুস্থ সুবেরেন্নেছার চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হয়।
অভাবের কারণে কখনো খাবার, কখনো চিকিৎসা, আবার কখনো সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় পরিবারটিকে। এর মধ্যে প্রয়াত আব্দুল জলিলের মালয়েশিয়াপ্রবাসী বন্ধু বাতেন পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে নিজের উদ্যোগে একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। এতে পরিবারটি অন্তত নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি আশ্রয় পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাতজনের সংসারের দায়িত্ব জুলেখার কাঁধে। এই বয়সেও তাঁকে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হয়। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকাবাসী সহযোগিতা করলেও নিয়মিত সহায়তা করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তাদের কষ্ট কিছুটা কমবে।
৯১ বছরের সুবেরেন্নেছা হয়তো আর আগের মতো হাঁটতে পারবেন না, ফিরে পাবেন না হারিয়ে যাওয়া স্বজনদেরও; তবে জীবনের শেষ প্রান্তে তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়, প্রয়োজন নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা। সেই সামান্য স্বস্তির অপেক্ষাতেই দিন কাটছে সুবেরেন্নেছা ও তাঁর পরিবারের।
জ/উ