দক্ষিণ কোরিয়ায় বোমা হামলার মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে রসিকতা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ২০-এর কোঠায় থাকা এক ব্যক্তি। অনলাইনে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি দেওয়ায় পুলিশের পরিচালিত তল্লাশি অভিযানের পুরো ব্যয় এখন তাকেই ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এর পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮১ ওন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১১ লাখ টাকার বেশি। বাংলাদেশি ১ টাকা সমান প্রায় ১১ ওন।
দ্য কোরিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির অনলাইন হুমকির পর সিউলের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। তবে তল্লাশি চালিয়েও কোথাও কোনো বিস্ফোরক বা বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অভিযানে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮১ ওন ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের খরচ, ওভারটাইমের পারিশ্রমিক, জ্বালানি এবং খাবারের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সিউলের একটি আদালত ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তল্লাশি অভিযানের সম্পূর্ণ ব্যয় আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা হুমকির ঘটনায় পরিচালিত অভিযানের ব্যয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায়ের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আদালতের এমন নির্দেশ এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টে ইউটিউবে একটি হুমকিমূলক ভিডিও পোস্ট করেন ওই ব্যক্তি। ভিডিওতে তিনি সিউলের শিনসেগে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভিডিওটি নজরে আসার পর নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। স্টোরটির আশপাশের এলাকায় ২৭৭ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি হুমকির সত্যতা যাচাইয়ে তল্লাশি চালানো, টহল বাড়ানো এবং হুমকিদাতাকে শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়।
পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। সিউল থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাউথ গিয়ংসাং প্রদেশের হাদোং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। অভিযানে ব্যয় হওয়া অর্থ আদায়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। পরে সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত তাকে পুরো অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে অনলাইনে বোমা হামলার ১৭৭টি হুমকি পুলিশের নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
জ/উ