টেক্সাস থেকে নিউ জার্সিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বিশৃঙ্খলা ও সহযাত্রীদের সঙ্গে সহিংস আচরণের অভিযোগে ৬৭ বছর বয়সী এক যাত্রীকে ডাক্ট টেপ ও প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে সিটের সঙ্গে বেঁধে রাখেন অন্য যাত্রীরা। পরে বিমানটি বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক থারগুড মার্শাল বিমানবন্দরে অবতরণ করলে পুলিশ ওই যাত্রীকে হেফাজতে নেয়।
মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওই যাত্রীর নাম আর্থার লানডিন। বৃহস্পতিবার রাতে ডালাস থেকে নেওয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঘটনাটি ঘটে।
কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর লানডিন হঠাৎ অশ্লীল ভাষায় চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে তার আচরণ সহিংস হয়ে উঠলে তিনি পাশের এক যাত্রীর ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তখন কয়েকজন সহযাত্রী এগিয়ে আসেন।
একপর্যায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়ান মেহিয়াসহ দুই যাত্রী লানডিনকে কাবু করেন। তারা প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলেন এবং ডাক্ট টেপ ব্যবহার করে তাকে সিটের সঙ্গে আটকে রাখেন। পরে বিমানটি গন্তব্যের পরিবর্তে বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক থারগুড মার্শাল বিমানবন্দরে অবতরণ করলে পুলিশ সদস্যরা বিমানে উঠে তাকে হেফাজতে নেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জুয়ান মেহিয়া বলেন, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিমানের স্বাভাবিক পরিবেশ হট্টগোলে পরিণত হয়। তিনি পেছনে তাকিয়ে একজন যাত্রীকে আরেকজনের গলা চেপে ধরে থাকতে দেখেন। তাকে থামানোর পরও ওই ব্যক্তি নারীসহ অন্য যাত্রীদের উদ্দেশে অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ চালিয়ে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ডালাস থেকে নেওয়ার্কগামী ফ্লাইটটি বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক থারগুড মার্শাল বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে অবতরণের পর পুলিশ লানডিনকে আটক করে।
এ ঘটনায় আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে বলেছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানে যেকোনো ধরনের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে বিমান সংস্থাটি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব দেখানোর জন্য কর্মী ও সহযাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
জ/উ