গানের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি ফ্যাশনেও নিজের স্বতন্ত্র রুচির পরিচয় দিয়েছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। বিশেষ করে অনুষ্ঠান কিংবা মঞ্চ পরিবেশনার আগে তার পোশাক নির্বাচনে থাকে জমকালো ও আভিজাত্যের ছাপ। এবার ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে রাজকীয় গ্ল্যামার মিশিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।
গাউন, লং কোট কিংবা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পোশাকে দেখা গেলেও সিকুইন, ঝলমলে কাজ এবং নরম রঙের প্রতি শ্রেয়ার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তার এবারের সাজেও ছিল সেই পছন্দের প্রতিফলন।
শ্রেয়ার পরনে ছিল রাস্ট-অরেঞ্জ বা পোড়া কমলা রঙের ফ্লোর-লেন্থ আনারকলি গাউন। মেঝেস্পর্শী পোশাকটির পুরো জমিনজুড়ে ছিল ছোট ছোট সোনালি বুটি বা প্রিন্ট। উষ্ণ কমলা রঙের সঙ্গে সোনালি কাজের সমন্বয়ে সাজে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর আবহ।
আনারকলির লম্বা সিলুয়েট ও প্রশস্ত ফ্লেয়ার শ্রেয়ার উপস্থিতিতে যোগ করেছে আভিজাত্য। ঐতিহ্যবাহী কাটের কারণে পুরো লুকে ফুটে উঠেছে রাজকীয় ভারতীয় আমেজ।
গাউনের ওপর একই রঙের ফুলহাতা ক্রপড জ্যাকেট বা কটিও পরেছিলেন তিনি। ছোট আকৃতির এই জ্যাকেট সাজে তৈরি করেছে আকর্ষণীয় লেয়ারিং। এর বর্ডার ও হাতায় ছিল সোনালি জরির কাজ এবং সূক্ষ্ম সিকুইন এমব্রয়ডারি।
গাউনের তুলনায় জ্যাকেটের ভারী অলংকরণ পুরো সাজকে আরও জমকালো করে তুলেছে। বিয়ে, উৎসব কিংবা সন্ধ্যার বিশেষ আয়োজনে এমন জ্যাকেটের সঙ্গে সাধারণ আনারকলিকেও সহজেই স্টেটমেন্ট লুকে পরিণত করা যায়।
পোশাকের সঙ্গে শ্রেয়া বেছে নিয়েছিলেন নজরকাড়া এথনিক গয়না। গলায় ছিল চওড়া সোনালি চোকার নেকলেস, যাতে মুক্তো ও পাথরের কারুকাজ ছিল। গলার এই ভারী অলংকারই হয়ে উঠেছিল সাজের অন্যতম আকর্ষণ।
চোকারের সঙ্গে মিলিয়ে কানে ছিল বড় ঝুলন্ত সোনালি ঝুমকা। গলার গয়নার সঙ্গে ঝুমকার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল পরিপূর্ণ এথনিক লুক। হাতে থাকা বড় স্টেটমেন্ট রিংও সাজে যোগ করেছে বাড়তি আভিজাত্য।
চুলের সাজেও ছিল ভিন্নতার ছাপ। চুল একপাশে এনে লম্বা ফ্রেঞ্চ বিনুনি করা হয়েছিল। সামনের অংশ সামান্য বাউন্সি রাখায় হেয়ারস্টাইলে স্বাভাবিক ভলিউম বজায় ছিল। ভারী এথনিক পোশাকের সঙ্গে এই বিনুনি শ্রেয়ার সাজে এনে দিয়েছে কোমল ও ঐতিহ্যবাহী আবহ।
মেকআপে ছিল সফট গ্ল্যাম লুক। চোখে গাঢ় আইশ্যাডোর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল স্মোকি আবহ। পোশাকের উষ্ণ রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠোঁটেও ব্যবহার করা হয়েছিল মানানসই শেড।
খুব বেশি ভারী মেকআপ না করে চোখকে সাজের মূল আকর্ষণ করা হয়েছিল। ফলে পোশাক ও গয়নার জমকালো ভাবের মধ্যেও শ্রেয়ার স্বাভাবিক সৌন্দর্য আলাদা করে ফুটে উঠেছে।
সব মিলিয়ে পোড়া কমলা আনারকলি, সোনালি কাজ, ভারী এথনিক গয়না, বিনুনি ও সফট গ্ল্যাম মেকআপ-প্রতিটি উপাদানের সমন্বয়ে শ্রেয়া ঘোষালের সাজে ফুটে উঠেছে রাজকীয় এথনিক লুক। ঐতিহ্যবাহী বিয়ে, উৎসব কিংবা সন্ধ্যার কোনো জমকালো আয়োজনে নজরকাড়া সাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে এমন লুক হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।
জ/উ