দুর্বল পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত মুনাফার একটি অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গভর্নর কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়খুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তাঁদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা যেন তাঁদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে নির্ধারিত নির্দেশনার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাংকটির স্বাভাবিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের জমানো অর্থ ফেরত দিতে না পারা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
এর আগে এসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। সম্প্রতি প্রশাসকদের সরিয়ে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাংকগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।
জ/উ