অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী পেস বোলিংয়ের সামনে ম্যাকাই টেস্টে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারায় সফরকারীরা। টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা আপাতত এড়ালেও লাঞ্চ বিরতির আগে স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ।
প্রথম সেশন শেষে ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ১১ ও হাসান মাহমুদ ৮ রানে অপরাজিত থেকে লাঞ্চে যান।
ডারউইনে অবিশ্বাস্য জয় পাওয়ার পর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ম্যাকাই টেস্টে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরু থেকেই স্টার্কের গতির সামনে অসহায় হয়ে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ইনিংসের প্রথম ২২ বলের মধ্যেই ৫ উইকেট তুলে নিয়ে একাই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান এই অজি পেসার।
মাত্র ৬.৪ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এ সময় ৪ ওভার বল করে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ৪ রান খরচ করেন স্টার্ক। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারে মাত্র ১৫ বলে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও রয়েছে তার।
শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ফলে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।
এরপর ৯ রান করা মুমিনুল হকও স্টার্কের বলে আউট হন। লিটন দাসও ৫ বল খেলে কোনো রান না করেই বিদায় নেন। এতে মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কা আপাতত কেটে গেলেও নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড এড়াতে এখনও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। ৪২ বল মোকাবিলা করে ৫ রান করা মুশফিকুর রহিম ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হলে ২১ রানেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৪ রানের জুটিতে লাঞ্চ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত আছেন।
এই টেস্টের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে ৬ উইকেট নেওয়া এই পেসার ইবাদত হোসেনের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশ একাদশ
সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ
ট্র্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড।
জ/উ