অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বার্সেলোনা। তবে আপাতত সেই চেষ্টা থেকে সরে এসে বিকল্প স্ট্রাইকার খুঁজছে কাতালান ক্লাবটি। সেই তালিকায় রয়েছেন আরেক আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ও ইন্টার মিলানের তারকা লাউতারো মার্টিনেজ।
সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আলভারেজকে পাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেয়নি বার্সেলোনা। ভবিষ্যতে, এমনকি জানুয়ারির সংক্ষিপ্ত দলবদলেও তাকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে তারা। তবে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের অনড় অবস্থানের কারণে বার্সার ক্রীড়া পরিচালক দেকোকে আপাতত অন্য খেলোয়াড়ের দিকে নজর দিতে হচ্ছে।
বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও দলে একজন ‘নম্বর নাইন’ চান। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেররান তোরেসের বিদায়ের পর আক্রমণভাগে একজন স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। বুধবার ফ্লিক বলেন, ‘আমরা ওই খেলোয়াড়টির (স্ট্রাইকার) খোঁজ করছি এবং ডেকো দারুণ কাজ করছে।’ তবে ক্লাবের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ধারণা, নতুন কোনো স্ট্রাইকার না এলেও বর্তমান স্কোয়াডে প্রয়োজনীয় বিকল্প রয়েছে।
দেকো বলেন, ‘আমরা আক্রমণভাগে দুজন খেলোয়াড়কে হারিয়েছি-লেভি ও ফেররান। আমার মনে হয়, যেসব খেলোয়াড় আমরা দলে এনেছি, তাদের মাধ্যমে ফেররানের জায়গা পূরণের সমাধান আমাদের আছে। কিন্তু রবার্টকে প্রতিস্থাপন করা অনেক বেশি কঠিন। তার মতো একজন খেলোয়াড়কে বদলি করা সত্যিই কঠিন। আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু সমাধান আছে। তবে বাজারে কী পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও দেখতে হবে। অনেক গুঞ্জন চলছে। আমার মনে হয় আরও কিছু পরিবর্তন হবে। আমরা এখনও কঠোর পরিশ্রম করছি।’
চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে আলভারেজকে পেতে বার্সেলোনা প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অ্যাতলেটিকো। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই ফরোয়ার্ড প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, তিনি ক্লাব পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু অ্যাতলেটিকো শুরু থেকেই তাকে ছাড়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানিয়ে আসছে।
আলভারেজের ক্লাব পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে আসার পর বার্সা আশা করেছিল, অ্যাতলেটিকোর অবস্থান কিছুটা নরম হতে পারে। কিন্তু ইএসপিএনের সূত্রের দাবি, এখন বার্সেলোনা ধরে নিয়েছে-শেষ মুহূর্তে কোনো ‘নাটকীয়’ পরিবর্তন না হলে চলতি মাসে আলভারেজকে দলে আনার সম্ভাবনা নেই।
ফ্লিক অবশ্য এখনও একজন ‘নম্বর নাইন’ পাওয়ার আশা করছেন। তবে ক্লাবের ভেতরে রাফিনিয়া, করিম আদেয়েমি, অ্যান্থনি গর্ডন কিংবা লামিনে ইয়ামালকে প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে। ফারমিন লোপেজ ও দানি ওলমোকেও অতীতে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলানো হয়েছে।
প্রাক-মৌসুমে বার্সেলোনার স্কোয়াডে একমাত্র স্বাভাবিক স্ট্রাইকার হিসেবে রয়েছেন ১৮ বছর বয়সী মিশরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম। বুধবার জোয়ান গাম্পার ট্রফিতে আল আহলির বিপক্ষে বার্সার জয়ে গোল করেছেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে এটি ছিল হামজার চতুর্থ গোল।
এদিকে চলতি গ্রীষ্মে চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো ও বোর্নমাউথের ফরাসি তরুণ জুনিয়র কুপ্রির বিষয়েও খোঁজ নিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে পেদ্রো চেলসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন। অন্যদিকে পায়ের চোটের কারণে বোর্নমাউথের কুপ্রি চার মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে পারেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্টিনেজ ও স্পোর্টিং সিপির লুইস সুয়ারেজের নামও বার্সার সম্ভাব্য লক্ষ্যের তালিকায় এসেছে। তবে আপাতত দুজনের ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য ট্রান্সফার ফি বার্সেলোনার নাগালের বাইরে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভিয়ারিয়ালের দুই খেলোয়াড় আয়োজে পেরেজ ও জর্জেস মিকাউতাদজের পরিসংখ্যানেও মুগ্ধ বার্সেলোনা। ফলে আলভারেজকে আপাতত না পাওয়ার বাস্তবতা মেনে নিয়ে দলবদলের শেষ সময়ে কোন বিকল্প স্ট্রাইকারকে কাতালান ক্লাবটি বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জ/উ