জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-08-20T14:13:13+06:00
2026-08-20T14:13:13+06:00
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
আইন-আদালত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৩ পিএম 
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্ত প্রতিবেদনে। হাইকোর্টে দাখিল করা ৪২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে থাকার সময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন তিনি।

দেশের ব্যাংকিং খাতের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন। ওই সময় ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের হাতে। প্রায় আট বছর পর বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিন এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানেও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এসব নিরীক্ষা প্রতিবেদন লন্ডনভিত্তিক ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান The Lioyd যাচাই বা অনুমোদন করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে শেয়ার সংগ্রহ এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

ওই সময়ে জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হন। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার অধিগ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত শুরু করে বিএফআইইউ। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সংস্থাটি আদালতে ৪২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স ইসলামী ব্যাংক থেকেই জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ ব্যবহার করে আবার ব্যাংকটির শেয়ার কিনেছে। অর্থাৎ, ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করেই ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পর্ষদ পুনর্গঠনের পর এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঋণের অনেকগুলো যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই অনুমোদন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা। এর ফলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি তারল্য সংকট তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক। নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর থেকেই এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণের অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী তদন্তে এসব ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার তথ্যও সামনে আসে। এতে ব্যাংকটির মূলধন, তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এরপর বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এস আলম গ্রুপের ব্যাংকিং কার্যক্রম, ঋণ বিতরণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার অধিগ্রহণের ঘটনাটিও পুনরায় তদন্ত করা হয়।

এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

তবে বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য ও অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবেন। তাই প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]