এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ (এলজি) আনুষ্ঠানিকভাবে এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। নির্বাচিত পাঁচটি সামাজিক উদ্যোগ বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে উদ্ভাবনী ও কার্যকর সমাধান প্রদানের জন্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর পর থেকে এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ সমাজের বিভিন্ন সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে উদ্ভাবনী চিন্তাধারার ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। আর্থিক অনুদান, দিকনির্দেশনা এবং ধারাবাহিক সহায়তার মাধ্যমে এই কর্মসূচি সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে বাস্তব সামাজিক পরিবর্তনে রূপ দিতে সহায়তা করে।
এ বছরের বিজয়ী প্রকল্পগুলো শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখার সক্ষমতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জের বিজয়ী পাঁচটি প্রকল্প হলো
কোস্টাল লাইফলাইন (কক্সবাজার)
মিনহাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগ-ঝুঁকিতে থাকা এবং অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করবে।
অ আ ক খ স্কুল (সিরাজগঞ্জ)
মো. আবদুল্লাহ রনির নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
উপকূল অঞ্চলের নিরাপত্তা/ভিএএন প্রজেক্ট (সাতক্ষীরা)
মো. হাবিবুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে কাজ করবে।
সুন্দরবনের নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন (খুলনা)
শুভ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ নারীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করবে।
প্রজেক্ট উদয় (রাজশাহী)
সাবরিনা হকের পরিচালনায় এই প্রকল্পটি স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক জীবনমান বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
অর্থবহ সামাজিক পরিবর্তনের পথে
আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি এলজি বিজয়ী অ্যাম্বাসেডরদের সঙ্গে পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশে এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা অসংখ্য সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে সহায়তা করেছি, যা সমাজে অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এলজিতে আমরা বিশ্বাস করি, ‘Life’s Good’ শুধু একটি ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি নয়; এটি মানুষের জীবনকে আরও ভালো করার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় পরিবর্তনসাধকদের ক্ষমতায়ন এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব, যাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কমিউনিটিতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়, বলেন, এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের লিডার সুংগু চুন।
উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার নিয়ে এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি, যা সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করা উদ্ভাবনী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও সহায়তা করে।
তৃণমূল পর্যায়ের উদ্ভাবনী উদ্যোগে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক মূল্য সৃষ্টি করে এমন প্রকল্পগুলোকে সমর্থনের মাধ্যমে এলজি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শক্তিশালী এবং টেকসই সমাজ গঠনে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এভাবেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনে ‘Life’s Good’ দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে চলেছে।
এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও সমাধানের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ, উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কমিউনিটির ক্ষমতায়ন এবং টেকসই সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলেছে।