সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বৌলতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা কমপক্ষে বিশ জন। গুরুতর আহতদেরকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে। আজ দুপুর সোয়া একটা থেকে দেড়টার মধ্যে ওই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গোপালগঞ্জ মুখি একটি যাত্রীবাস (ফরিদপুর-জ-১১০০৩৯) ও টেকেরহাটমুখি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-অ-১৩০৪১৩) সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে উদ্ধার কাজ চালায়। স্থানীয়রাই বেশ কয়েকজন গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে নিহত ও অন্যান্য আহতদেরকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৌলতলি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জানান আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। নিহত ও আহতদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
তারা আরও জানান, সোনালী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আশা ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের উপরে উল্টে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক ও তার সহকারী এবং যাত্রীবাসের এক নারীযাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা.ইজাজ হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগে একজন নারীসহ নয় জনকে আনা হয়। এর মধ্যে এক নারী ও একজন পুরুষ এখানে আনার আগেই নিহত হয়েছে।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মধ্যে দুইজন মেডিকেল কলেজে অন্য এক জন ঘটনাস্থলে আছে।