নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-08-12T13:26:50+06:00
2026-08-12T13:26:50+06:00
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
শেরপুরে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে স্থানীয়দের দাবি
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৬ পিএম 
ময়মনসিংহ বিভাগের বিস্তীর্ণ গারো পাহাড়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত। হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে ফসল নষ্ট করছে, কখনো আক্রমণে মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছেন। আবার ফসল ও জানমাল রক্ষায় মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে মারা পড়ছে হাতি। দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

তবে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হাতিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে তাদের জন্য বিস্তীর্ণ অভয়ারণ্য গড়ে তোলাই হতে পারে সংঘাত কমানোর কার্যকর উপায়। বন বিভাগের জমিতে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করে হাতির স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা গেলে এক দিকে যেমন মানুষের জানমাল ও ফসল রক্ষা করা সম্ভব, অন্যদিকে রক্ষা পাবে দেশের বন্যহাতি।

১৯৯৫ সাল থেকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির বিচরণ বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এ অঞ্চলে ২৫ থেকে ৩০টি হাতি দেখা গেলেও বর্তমানে হাতির সংখ্যা বেড়ে প্রায় দুই শতাধিক হয়েছে। খাবার ও পানির সংকটে হাতির দল প্রায়ই পাহাড় ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে। এতে কৃষকের ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হচ্ছে।

অভয়ারণ্যে খাবার-পানির ব্যবস্থা, হাতি তৃণভোজী প্রাণী। প্রতিদিন একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির বিপুল পরিমাণ খাবার ও পানি প্রয়োজন হয়। তাই তাদের বিচরণের জন্য বড় এলাকা দরকার। বনভূমিতে পর্যাপ্ত খাবার না থাকলে হাতির দল লোকালয়ে ঢোকে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গারো পাহাড়ের বন বিভাগের জমিতে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে অভয়ারণ্য গড়ে তুলে সেখানে হাতির খাবার উপযোগী গাছপালা লাগানো, পানির উৎস তৈরি এবং হাতির নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও হাতি-নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

বন্যহাতির আক্রমণকবলিত এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম মন্ডল বলেন, জনগণের জানমাল ও ফসল রক্ষায় বন বিভাগের জমিতে অভয়ারণ্য করা যেতে পারে। সীমান্ত থেকে এক-দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হলে হাতি ও মানুষের চলাচলের এলাকা আলাদা করা সম্ভব হবে। কারিতাসের হাতি নিরাপত্তা কমিটির সদস্য সামুয়েল চাম্বুগং বলেন, বিস্তীর্ণ বনভূমিতে হাতির জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করা গেলে মানুষ ও হাতি উভয়েরই কল্যাণ হবে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। হাতির খাবার উপযোগী গাছপালা বেশি করে রোপণ করতে হবে। পর্যাপ্ত খাদ্য ও চলাচলের জায়গা রেখে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া গেলে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব কমানো সম্ভব।

অভয়ারণ্যের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বন বিভাগ: ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, হাতির জন্য অভয়ারণ্য তৈরির একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]