ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা ছিল। সম্প্রতি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ পরিকল্পনা প্রকাশ করে সমালোচকদের আরও ক্ষুব্ধ করেছেন তিনি। ৬৪ দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তাও মেনে নিতে রাজি নন অনেকে। এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পুরোনো এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
ইনফান্তিনো একসময় উয়েফার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে উয়েফা ছয় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী ছিলেন উয়েফায় ইনফান্তিনোর জুনিয়র সহকর্মী। তাঁকে আকর্ষণীয় পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। তবে ওই সময় ফিফার বর্তমান সভাপতি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর চার সন্তান রয়েছে।
উয়েফা নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট নারীকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তাঁর এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করার ফি পরিশোধেও ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী ওই অর্থ প্রদান বৈধ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উয়েফার এ-সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।
এমন অভিযোগের পর দীর্ঘ একটি বিবৃতি দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটি অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন দাবি ও স্পষ্টতই মিথ্যা অভিযোগ’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ফিফার দাবি, কোনো ধরনের পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া ছাড়াই ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে তাঁর কর্তৃত্ব দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি বাণিজ্যিক সহায়ক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মুনাফা বিক্রির পরিকল্পনা তিন মহাদেশ প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই চাপের মুখে রয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ মোট ১৬ বছর ইউরোপীয় সংস্থাটিতে কাজ করেছেন ইনফান্তিনো। পরে তিনি ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে উয়েফাই তাঁর অন্যতম জোরালো সমালোচক।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে উয়েফা জানিয়েছিল, ইনফান্তিনো তাঁর ব্যর্থ পরিকল্পনার জন্য ক্ষমা চাইলেও এর প্রতিবাদে উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, এমনকি বিশ্বকাপও বয়কট করতে পারে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিফা বিবৃতিতে বলেছে, ‘কিছু পক্ষের সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা ফিফা ও এর সভাপতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যারা ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন না, তাদের উচিত নয় ফিফার প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারছেন না, তা অভিযোগ, ইঙ্গিত কিংবা ভুল তথ্যের মাধ্যমে অর্জনের চেষ্টা করা।’
সংস্থাটির দাবি, ‘সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফিফা ও এর সভাপতিকে ঘিরে ভিত্তিহীন দাবি এবং স্পষ্টতই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অনুমান ও ইঙ্গিতকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। একই অভিযোগ বারবার করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।’
জ/উ