তিস্তা নদীর পানি বাড়লে বন্যা, আর পানি কমলেই শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন। বছরের পর বছর এমন দ্বিমুখী দুর্যোগের মধ্যেই জীবনযাপন করছেন লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ। বুধবার তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকি (৭০) জানান, বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিস্তার পানি বেড়ে তাদের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। বিকেলের দিকে পরিবারের সদস্য ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন তারা। পানিতে তলিয়ে গেছে রোপা আমনের ক্ষেত। কয়েক দিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
স্থানীয় ভাষায় তিনি বলেন, হামরাগুলা তিস্তাপাড়োত কষ্ট করি বাঁচি আছি। হামারগুলার কষ্টের শ্যাষ আর নাই। তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার কষ্ট, পানি নামি গ্যাইলেও হামারগুলার কষ্ট। পানি বাড়লে বান হয়, আর পানি নামি গ্যালি নদীভাঙন শুরু হয়। হামারগুলার খালি বিপদ আর বিপদ।
স্থানীয়রা জানান, গত দেড় মাস ধরে তিস্তার পানি বারবার বাড়া-কমার কারণে একদিকে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। সকাল ৯টায় পানি আরও ২ সেন্টিমিটার কমে। এর আগের দিন বুধবার সকালে একই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বুধবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল না এলে পানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, গত প্রায় দেড় মাস ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। এ অঞ্চলে সাধারণত আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দেয় এবং পানি বৃদ্ধি পেলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নেমে যায়।
তবে নদীপাড়ের মানুষের দাবি, শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থায়ী নদী শাসন ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কোনো দিনই শেষ হবে না। তাদের ভাষায়- “তিস্তার পানি বাড়লেও বিপদ, কমলেও বিপদ।”