যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির জন্য লিখিত সংবিধান প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি নতুন সাংবিধানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
লন্ডন থেকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নহ্যাম বলেন, দেশের পরিচালনায় ‘নতুন ও সুস্পষ্ট নীতিমালা’ প্রয়োজন এবং মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বারবার বিতর্ক এড়াতে লিখিত সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সংবিধানের অভাব বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষমতায়নেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের বিপরীতে যুক্তরাজ্যে একক কোনো লিখিত সংবিধান নেই। দেশটি বিভিন্ন আইন, কমন ল’-ভিত্তিক আদালতের রায় ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।
লিখিত সংবিধানের ধারণা নতুন নয়। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকা লেবার পার্টির গর্ডন ব্রাউন এ ধরনের সংস্কারের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। সে সময় বার্নহ্যাম তার সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে একটি পার্লামেন্টারি কমিটিও লিখিত সংবিধান প্রণয়নের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করলেও জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চাইলে তা হবে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার জন্য জনপর্যায়ে বিস্তৃত পরামর্শ ও তদন্ত প্রয়োজন হবে।
এর আগে গত শুক্রবার তিনি ঘোষণা দেন, ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক মেয়রদের নিজ নিজ এলাকায় আদায়কৃত করের একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এটি লন্ডনকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন সংস্কার সত্ত্বেও ইংল্যান্ড এখনো ইউরোপের অন্যতম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত শাসনব্যবস্থার দেশ।
জ/উ