ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাঁধনের বাবা প্রকৌশলী আমিনুল হক।
ভেনিসে হামলার পর ইতালির পুলিশের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, তাঁকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সবসময় হোটেলের লবিতে অবস্থান করতেন এবং তিনি যেখানেই যেতেন, সেখানেই তাঁরা তাঁর সঙ্গে থাকতেন।
বাঁধন জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইতালির পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, যারা অন্যকে আক্রমণ করছেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরাই সমস্যায় পড়ছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে শুধু দূর থেকে গালাগাল, স্লোগান বা পানি ছোড়া হয়নি; বরং তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসীদের দলকানা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেওয়া অডিও বা ভিডিও বার্তায় উসকানি পেয়ে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়। কারণ, এতে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশে অর্থ পাঠান। তাই তাঁদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন বাঁধন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে গত সপ্তাহে ইতালি যান বাঁধন। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার অর্জন করে ছবিটি।
৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন বাঁধন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে পানি ও কোমলপানীয় ছুড়ে মারা হয়, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাঁর হাত থেকে মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়। ওই সময় তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ঘটনার পর দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
জ/উ