কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ভারতের জয় যেন ছিল সময়ের অপেক্ষা। মাত্র ১৬ রানের লিড নিয়ে শ্রীলঙ্কার হাতে ছিল চার উইকেট। শেষ দিনে লেজের দিকের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে জয় নিশ্চিত করবে ভারত এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে।
কিন্তু সব হিসাব পাল্টে দেন সোনাল দিনুশা। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের অসাধারণ দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত জয়ের সমান এক ড্র পেয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ফলে প্রথম টেস্টে জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।
কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে ২৬৪ বলে অপরাজিত ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন দিনুশা। মূলত তার ব্যাটেই ভারতের নিশ্চিত মনে হওয়া জয় থমকে যায়।
প্রথম ইনিংসে ২১৩ রানের বড় লিড নেওয়ার পর ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে দ্রুত অলআউট করে সিরিজ ২-০ করার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু দিনুশার অবিচল ব্যাটিংয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার লিড দাঁড়ায় ২১৬ রানে। এরপর দুই দলের সম্মতিতে ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়।
আগের দিন ফলো-অনে পড়া শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে। চতুর্থ দিনে ফলো-অন করার পর সপ্তম উইকেটে দিনুশা ও কেশারা নুয়ান্থা ১১২ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরান। এই জুটিতে নুয়ান্থার অবদান ছিল ৪৬ রান।
পঞ্চম দিনেও ভারতের বোলারদের কঠিন পরীক্ষা নেন দিনুশা ও নুয়ান্থা। মানভ সুথারের বলে নুয়ান্থা ফিরলে ব্যাটিংয়ে আসেন প্রবাত জয়াসুরিয়া। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি।
এরপর দিনুশার সঙ্গে জুটি বাঁধেন লাহিরু কুমারা। দুজন মিলে ভারতীয় বোলারদের হতাশ করে কাটিয়ে দেন ২৮ ওভার। এর মধ্যে লাহিরু একাই ক্রিজে কাটান ১৫ ওভার বা ৯০ বল।
শেষ পর্যন্ত দিনুশাকে ফেরানোর কোনো উপায় খুঁজে পায়নি ভারতের বোলাররা। জাদেজার বলে লাহিরু ফিরলেও আসিতা ফার্নান্দোর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান দিনুশা। আসিতা কোনো রান না করলেও ২৪ বল মোকাবিলা করে মূল্যবান সময় কাটান।
শ্রীলঙ্কার লিড ২১৬ রানে পৌঁছানোর পর তাদের হার এড়ানো নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ভারতও ড্র মেনে নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ১৭ ওভার আগেই ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে।
দিনুশার অপরাজিত সেঞ্চুরি তাই শুধু একটি দুর্দান্ত ইনিংসই নয়, ভারতের হাত থেকে নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নেওয়া এক বীরত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবেও মনে থাকবে।
জ/শা