দীর্ঘ ১২ বছর পর ইতালির রাজধানী রোমে কনসার্ট করতে যাচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় রকশিল্পী নগরবাউল জেমস। আগামী ১৬ আগস্ট রোমে অনুষ্ঠিত হবে তার কনসার্ট। বিশেষ এই দিনেই প্রয়াত রক কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন। তাই কনসার্টকে ঘিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে জেমসের প্রিয় বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সহকর্মী বাচ্চুর প্রসঙ্গ।
রোমের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি তুলে ধরেন জেমস। বন্ধুকে হারানোর পর নিজের একাকিত্বের কথাও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চাননি এই রক তারকা।
আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করে জেমস বলেন, আমরা সব সময় একসঙ্গেই কাজ করেছি, জোড়া ছিলাম আমরা। তো উনি চলে যাওয়ার পর খুব একা লাগে, এর থেকে বেশি বিষয় বলতে চাই না।
জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের গান ও সংগীতচর্চার মাধ্যমে বাংলা রক সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন তারা। পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি দুজনের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। ২০১৮ সালে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে তাই জেমসের জীবনেও তৈরি হয় গভীর শূন্যতা।
এবার বাচ্চুর জন্মদিনেই রোমের মঞ্চে উঠছেন জেমস। ফলে কনসার্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে বন্ধুর প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই বুঝিয়ে দেন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধুকে হারানোর কষ্ট এখনো কতটা গভীর।
এদিকে ১২ বছর পর রোমে কনসার্ট করতে যাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জেমস। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা ও সমর্থনকে শিল্পীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রোমে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির উপস্থিতি দেখে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে জেমস বলেন, তার মনে হয়েছে তিনি ইতালিতে নন, বরং বাংলাদেশের কোনো একটি হোটেল বা সংবাদ সম্মেলনে বসে আছেন। প্রবাসীদের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর রোমে জেমসের কনসার্ট ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি উপভোগের অপেক্ষায় রয়েছেন ইতালিতে বসবাসরত বাংলা সংগীতপ্রেমীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেমস। তার বিশ্বাস, নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা বাংলা গান ও সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে ১৬ আগস্টের রোম কনসার্ট জেমসের জন্য শুধু দীর্ঘ বিরতির পর বিদেশের মাটিতে ফেরার আয়োজন নয়; একই সঙ্গে প্রিয় বন্ধু আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে তাকে স্মরণ করার এক আবেগঘন মুহূর্তও। মঞ্চে গান গাওয়ার পাশাপাশি বাচ্চুর স্মৃতিও যে জেমসের মনে বিশেষভাবে ফিরে আসবে, তা তার কথাতেই স্পষ্ট।