মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার হিসেবে বর্তমানে অবস্থান করছে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’। ফক্স নিউজের বরাত দিয়ে আল মায়াদিন জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ সম্প্রতি থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। একই সময়ে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বন্দর সান ডিয়াগোর পথে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘জর্জ ওয়াশিংটন’ বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে। গত আগস্টে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হতে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় মধ্যপ্রাচ্যে যতগুলো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে ১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজকে আরব সাগরে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে লোহিত সাগরে তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার অবস্থান করছে।
অন্যদিকে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং এর সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’ থাইল্যান্ডের ফুকেটে পৌঁছেছে। মার্কিন সপ্তম ফ্লিট এটিকে পূর্বনির্ধারিত বন্দর সফর হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বুশ আরব সাগরে প্রবেশ করেছিল। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হামলা এড়াতে মার্কিন নৌবাহিনী সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত পথ এড়িয়ে এই দীর্ঘ পথ বেছে নেয়। তবে সেন্টকম বা পঞ্চম ফ্লিট-কোনো পক্ষই বুশের মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
গত দুই মাসে এটি থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় কোনো মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের সফর। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ‘আব্রাহাম লিংকন’ও সান ডিয়াগো ফেরার পথে থাইল্যান্ডে যাত্রাবিরতি করেছিল।
‘আব্রাহাম লিংকন’ ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েনে ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সমুদ্র অবরোধে জাহাজটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। প্রায় ২৬৫ দিন পর থাইল্যান্ডে যাত্রাবিরতি নেওয়ার পর এখন এটি সান ডিয়াগোর উদ্দেশে ফিরছে।
রেকর্ড সময় ধরে চলা এই দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে মার্কিন রাজনীতিকদের পাশাপাশি নাবিকদের পরিবারের মধ্যেও সমালোচনা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে জাহাজের ভেতরে চরম বিষণ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মোতায়েনের সময় ‘লিংকন’ স্ট্রাইক গ্রুপের অন্তত আটজন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় ‘জর্জ ওয়াশিংটন’-এর ওপর চাপ কমাতে নতুন করে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ পাঠানো হচ্ছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সান ডিয়াগো থেকে যাত্রা করা এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি শিগগিরই জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দেবে অথবা সেটির দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এ ছাড়া ‘মেকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ’ও নভেম্বরের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এশিয়া থেকে জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এর ফলে চীনকে মোকাবিলার প্রস্তুতিতে নতুন করে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল মায়াদিন
জ/উ