জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। আজ বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেছেন এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি প্রাপ্তি।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এ সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের একটি রূপরেখাও উপস্থাপন করেছেন। চার দিনের সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন মাহদী আমিন। গত সাত মাসে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে কীভাবে কাজ করেছে, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিমানের বহর আরও বড় করার সুযোগ তৈরি হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি প্রেস ব্রিফিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের মানবিকতাকে কেউ দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করলে তা কারও জন্য ভালো হবে না। তিনি বলেন, অতীতে দেশে ভয়াবহ ও ফ্যাসিবাদী শাসন ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে চান।
সালেহ শিবলী বলেন, ‘আমরা যারা আলোর পথের যাত্রী হয়েছি, তাদের ধৈর্য ধরতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান এবং তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি চাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে রিমান্ডসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করেই প্রধানমন্ত্রী আজকের পর্যায়ে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সত্যিই একটি শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ গড়তে চান। তাই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সফলতা আড়ালের চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ