পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির নারীদের চেহারা, শরীর, বয়স এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি ও রসিকতা করে কনটেন্ট বানানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক জোরালো বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, নারীদের নিয়ে এ ধরনের অবমাননাকর বিষয়কে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাধারণ রসিকতা বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না।
হানিয়ার মতে, কোনো বিষয়কে ‘মতামত’ বা ‘হাস্যরস’ বললেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে না। সুস্থ মতামত প্রদান এবং কারো ব্যক্তিগত জীবনকে বিনোদনের সস্তা উপকরণ বানানোর মধ্যে পরিষ্কার ফারাক রয়েছে।
‘নারীরা কারও সম্পত্তি নয়। তাদের শরীর জনসমক্ষে মন্তব্য করার বিষয় নয়, আর তাদের চেহারাও জনসমক্ষে আলোচনার উপকরণ হওয়া উচিত নয়। এতদিনে আমাদের এসব থেকে এগিয়ে আসা উচিত ছিল।’
জনপ্রিয় ব্যক্তি বা নির্মাতারা যখন কোনো মন্তব্য করেন, তখন তা কেবল সেই মুহূর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সমাজ কোন বিষয়টিকে স্বাভাবিক বা মজার হিসেবে গ্রহণ করবে, তা অনেকাংশে এই কনটেন্টগুলোর প্রচারের ওপর নির্ভর করে।
শুধু কনটেন্ট নির্মাতাদের নয়, দর্শকদেরও এ বিষয়ে সমান দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
লাখ লাখ দর্শক যখন নেতিবাচক কনটেন্ট দেখেন এবং তা উপভোগ করেন, তখন সম্মিলিতভাবে তারাই নারীদের প্রতি এমন অবমাননাকর আচরণকে প্রশ্রয় দেন।
নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তিনি কড়া ভাষায় বলেন যে, নারীরা কারও সম্পত্তি নন এবং তাদের শরীর কিংবা চেহারা জনসমক্ষে আলোচনার বা রসিকতার বিষয় হতে পারে না। সমাজকে এই মানসিকতা থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
যদিও হানিয়া তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্মাতার নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার এই প্রতিবাদের সময়টিতে ভারতে অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা অনলাইন বুলিংয়ের বিষয়টি বেশ আলোচনায় ছিল।
এর আগেও পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জালাই সারহাদি ও আমনা ইলিয়াস অনলাইনে নারীদের নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।
তাদের মতে, এ ধরনের অনলাইন হেনস্তা কেবল পরিচিত তারকাদেরই নয়, বরং সমাজের অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাসম্পন্ন সাধারণ নারীদের জীবনকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জ/শা