দক্ষিণী সিনেমা দিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করলেও বর্তমানে বলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন রাশমিকা মান্দানা। কন্নড়, তেলুগু ও হিন্দিসহ একাধিক ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে গিয়ে অবশ্য উচ্চারণ ও ভাষাজ্ঞান নিয়ে মাঝেমধ্যেই কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় এই অভিনেত্রীকে। এবার নিজের ভাষাজ্ঞান ও পারদর্শিতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাশমিকা জানান, কোনো একটি ভাষাতেই তিনি পুরোপুরি পারদর্শী নন। তবে বিভিন্ন ভাষায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো করে কথা বলতে পারেন-এটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেত্রী বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে শুটিং সেটে নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই তার কাজ। এরপর বাড়ি ফিরে যাওয়াই তার কাছে স্বাভাবিক বিষয়। প্রতিটি সিনেমায় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বা সমালোচনায় মনোযোগ না দিয়ে ভালো গল্পের অংশ হওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
ভাষা প্রসঙ্গে রাশমিকা বলেন, কোনো একটি ভাষায় তিনি খুব বেশি দক্ষ নন। তবে যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই ভাষায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলেই সেটিকে তিনি সাফল্য হিসেবে দেখেন। তার কাছে ভাষার মূল উদ্দেশ্য মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা।
কর্নাটকের কোর্গে জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন রাশমিকা। তার বেড়ে ওঠার অঞ্চলের নিজস্ব ভাষাকে ঘিরে বড় কোনো চলচ্চিত্রশিল্প নেই। তবে ভাষা কখনোই তার ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং দর্শকদের উৎসাহেই প্রথমে তেলুগু সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। পরে হিন্দি সিনেমাতেও পা রাখেন।
রাশমিকার মতে, তিনি যেসব ভাষায় কাজ করেছেন, সেগুলোর কোনোটিই তার কাছে পর নয়। প্রতিটি ভাষাকেই নিজের ভাষা হিসেবেই দেখেন তিনি। ভাষা নিয়ে সমালোচনা বা কটাক্ষের চেয়ে দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং গল্পকে পর্দায় সঠিকভাবে তুলে ধরাকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী।
২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমা ‘কিরিক পার্টি’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় রাশমিকার। এরপর তেলুগু সিনেমায় একের পর এক সফল কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। ২০২২ সালে ‘গুডবাই’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে ‘অ্যানিম্যাল’, ‘ছাওয়া’ ও ‘সিকন্দর’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে হিন্দি দর্শকদের কাছেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
সম্প্রতি ‘ককটেল ২’ সিনেমাতেও দেখা গেছে রাশমিকাকে। দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউড-বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রশিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা এই অভিনেত্রী এখন ভাষার সীমার চেয়ে গল্প ও চরিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
জ/উ