তাড়াশে অবাধে চলছে শামুক-ঝিনুক নিধন, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

​তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিল অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে প্রতিদিন অবাধে তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক ও ঝিনুক। বাণিজ্যিক হাঁসের খামার ও বাগেরহাট-সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিলের এই প্রাকৃতিক সম্পদ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে চলনবিলের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য ও পানির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশবিদরা।

2026-09-08T17:35:32+06:00
2026-09-08T17:35:32+06:00
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
তাড়াশে অবাধে চলছে শামুক-ঝিনুক নিধন, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য
​তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম 
চলনবিলে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করছে খামারিরা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিল অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে প্রতিদিন অবাধে তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক ও ঝিনুক। বাণিজ্যিক হাঁসের খামার ও বাগেরহাট-সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিলের এই প্রাকৃতিক সম্পদ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে চলনবিলের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য ও পানির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশবিদরা।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্ষা থেকে শরৎকাল (জুলাই থেকে নভেম্বর) পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও পাবনার চাটমোহর অংশের চলনবিলে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের ধুম পড়ে। প্রতিদিন অন্তত ২,০০০ থেকে ২,৫০০টি অসচ্ছল ও হাঁস খামারি পরিবার নৌকা নিয়ে বিলে নেমে শামুক কুড়ায়। চলনবিলের বিভিন্ন ঘাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মণ শামুক-ঝিনুক বিক্রি হচ্ছে।

​সংগৃহীত কাঁচা শামুক প্রতি বস্তা (৫০–৬০ কেজি) ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় (মণপ্রতি ১০০–১৬০ টাকা) বিক্রি করেন সংগ্রহকারীরা। অন্যদিকে খোলস ছাড়ানো শামুকের মাংস প্রতি কেজি বিক্রী হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। স্থানীয় পাইকার ও বেপারিরা বিলের ঘাট থেকেই এগুলো কিনে কিনে ট্রাকবোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান। এসব শামুকের প্রধান ক্রেতা বাণিজ্যিক হাঁসের খামার ও উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরের মালিকরা। এছাড়া খোলস থেকে চুন তৈরি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারগুলো এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।

​পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শামুক-ঝিনুক জলাশয়ের "প্রাকৃতিক ফিল্টার" হিসেবে কাজ করে। এরা পানি থেকে পচাগলে যাওয়া জৈব বর্জ্য খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে। নির্বিচারে শামুক তুলে ফেলার কারণে বিলের পানি দূষিত ও ঘোলা হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির অন্যতম প্রধান খাদ্য শামুক কমে যাওয়ায় চলনবিলে দিন দিন পাখির আনাগোনা ও মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

​চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় অতি দ্রুত এই অপরিকল্পিত ও অবৈধ শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী কর্মীরা।


জ/বা




  বিষয়:   দেশজুড়ে  সিরাজগঞ্জ  জীববৈচিত্র 



Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]