রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রবিবার কিইভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তবে মার্কিন দুই দূতের ইউক্রেইন সফরে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর কিইভে এটিই ছিল উইটকফ ও কুশনারের প্রথম সফর। এর আগের দিন মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা।
কিইভের বৈঠককে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করে উইটকফ জানান, আলোচনায় তারা উৎসাহিত হয়েছেন। মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেও ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কুশনার বলেন, যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে কার্যকর না হওয়া উদ্যোগগুলো পর্যালোচনা করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চললে ইউক্রেইনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
রুশ বাহিনী অতীতেও শীতের সময় ইউক্রেইনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইউক্রেইন মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে মার্কিন মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেইনকে নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে ‘ন্যায্য শান্তি’র ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এমন কোনো শান্তিচুক্তি করা উচিত নয়, যা রাশিয়াকে ভবিষ্যতে আবার আগ্রাসনের সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে ইউক্রেইন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের শিগগিরই আবার বৈঠকের কথা জানান তিনি। রাশিয়া, ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বানও জানান জেলেনস্কি।
মার্কিন দূতদের সফরের সময় কিইভ ও মস্কোয় তিন দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার বিষয়ে পুতিন ও জেলেনস্কি সম্মত হয়েছিলেন। তবে ওই সময়েও দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য সামরিক হামলা অব্যাহত ছিল।
ইউক্রেইনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতে রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও কয়েকটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এর মধ্যে ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেইনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। ১১টি স্থানে হামলা এবং আরও সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন তাঁর উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। যুদ্ধের সমাধান, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য রুশ-মার্কিন যৌথ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রুশ বাহিনী ইউক্রেইনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়লেও স্থলযুদ্ধে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর। এর মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
জ/উ