রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘর্ষে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা আর সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এ কথা বলেন তিনি।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফরে এসে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও উষ্ণ সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো হয়। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে তিনি শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম থেকে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্কিট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে যান। সেখানে তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। এসময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় বরণ করে নেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা অনেকটাই অবহেলিত। আমি চেষ্টা করেছি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য কিছু করার। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। এরই মধ্যে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আমরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। আমরা আর রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা একটি সুন্দর সমাজ দেখতে চাই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখতে চাই। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, আমরা সেই গণতন্ত্র আর হারাতে চাই না।
মানুষের উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকারত্ব দূর করার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতার পরিচয়ে নিজেকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে হবে। একটি সুন্দর সমাজ গড়তে তোমরা এগিয়ে এসো। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাই মিলে রুখে দাঁড়াও।
রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তার আগমন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। এ কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জ/বা