দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান বাড়ছে শিল্পকলা ও বিনোদন খাতের। সেবা খাতগুলোর মধ্যে এ খাতটি এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম সিঁড়ি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী শিল্পকলা ও বিনোদনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে ছিল ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে উঠে এলো এসব তথ্য। গত সোমবার প্রকাশ হয় প্রতিবেদনটি। সেখানে বলা হয়েছে, এ খাতটি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন (রিভিশন-৪) অনুযায়ী নতুনভাবে তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যেমন- প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, সেগুলোয় নিয়োজিত জনবল, মজুরি এবং বেতন, মধ্যবর্তী ব্যয়, স্থায়ী সম্পদের ব্যবহার, পরিচালন উদ্বৃত্ত ইত্যাদি।
তবে উল্টোচিত্র রয়েছে সেবা খাতেরই আরও কয়েকটি উপ-খাতে। যেসব খাতের অবদান কমছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ব্যাংক-বীমা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, প্রশাসনিক ও সহায়ক সেবা এবং পেশাগত বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম।
বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের পরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন সরকার আগামীর সময়কে বললেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নির্দেশক যেমন-স্থূল দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), জিডিপি প্রবৃদ্ধি, জাতীয় আয় (জিএনআই), মাথাপিছু আয়, স্থূল ব্যয়যোগ্য আয় (জিডিআই), সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ভোগ, ইত্যাদির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
যেসব সেবা খাতের অবদান কমেছে- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক এবং সহায়ক সেবা কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জিডিপিতে অবদান কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। পাইকারি ও খুচরা, মোটরগাড়ি এবং মোটরসাইকেল মেরামত খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১২ শতাংশ, তার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ব্যাংক এবং বীমাসংক্রান্ত কার্যক্রমেও কমেছে প্রবৃদ্ধি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছর হয়েছিল ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক এবং কারিগরি সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশে, যা তার আগের অর্থবছর ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এ ছাড়া প্রশাসনিক ও সহায়ক সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছর ছিল ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
যেসব সেবা খাতের অবদান বেড়েছে: জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা এবং বাধ্যতামূলক সামাজিক সুরক্ষা খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। রিয়েল এস্টেট কর্মকাণ্ড খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাময়িক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২১ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি। পরিবহন ও সংরক্ষণ সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আবাসন এবং খাদ্যসেবা কার্যক্রমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছর হয়েছিল ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগ সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছর ছিল ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।