বৈশ্বিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে চলতি বছর রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির কাস্টমস বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত রপ্তানি আয় ৭০৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইতোমধ্যে গত বছরের পুরো বছরের রপ্তানি রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক রপ্তানি ৭০৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির বার্ষিক রপ্তানির রেকর্ড।
কাস্টমস সার্ভিসের তথ্য বলছে, এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই বার্ষিক রপ্তানিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার পথে রয়েছে। তা সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পর দক্ষিণ কোরিয়া হবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ, যারা এই রপ্তানি মাইলফলক অর্জন করবে।
কাস্টমস বিভাগ বলেছে, সংরক্ষণবাদী নীতির বিস্তার, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে তৈরি অনিশ্চিত বাণিজ্য পরিবেশের মধ্যেও দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ রপ্তানি ১৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২৮১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৪১ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মেমোরি চিপ নির্মাতা স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সের প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। এআই খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক প্রবাহের কারণে বিশ্ববাজারে চিপের ঘাটতি তীব্র হয়েছে এবং দামও বেড়েছে। এতে দেশটির এই দুই বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গাড়ি রপ্তানি ৪ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, দেশটির প্রধান রপ্তানি গন্তব্য চীনে এ সময়ে রপ্তানি ৭৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫৭ শতাংশ বেড়েছে বলে কাস্টমস বিভাগের তথ্যে উঠে এসেছে। সূত্র: রয়টার্স।
জ/উ