চীনের হেবেই প্রদেশে একটি জে-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল চীনের তৈরি চেংদু জে-১০। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। তবে এতে থাকা ক্রুদের কী পরিণতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। এনিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনাও চলছিল। আর এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনার খবরটি সামনে এলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুর্ঘটনার ফলে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমানটি ক্রয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং চীন তা কতটা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করে, তার ওপর সম্ভাব্য ক্রয়চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করতে পারে।
এদিকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি একটি ভুট্টাখেতে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে একাধিক বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন বলে জানা গেছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এটি আর মেরামত করে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপের তৈরি জে-১০ চতুর্থ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএলএএএফ) অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান।
সাম্প্রতিক সময়ে জে-১০ সিরিজের যুদ্ধবিমান বিদেশে রপ্তানি বাড়িয়েছে চীন। জে-১০সির রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই পাকিস্তান বিমানবাহিনী ব্যবহার করছে। এছাড়া গত আগস্টে উজবেকিস্তানও যুদ্ধবিমানটির প্রথম চালান পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উজবেকিস্তান সর্বোচ্চ ২৪টি জে-১০সিই কেনার আদেশ দিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি ইতিমধ্যে দেশটির বহরে যুক্ত হয়েছে।
জে-১০সিই কেনার বিষয়ে বাংলাদেশও চীনের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এখনো পুরোনো এফ-৭ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। ফলে আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংগ্রহকে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে হেবেইয়ের দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ জে-১০সিই কেনার পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
যদি তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় এবং চীনা কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করে, তাহলে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মূল্যায়নেও বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্রয়প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়বে কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
সূত্র: ইটস ভিয়েতনাম