নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে প্রায় দেড় ঘণ্টার অবস্থান শেষে শাহবাগ মোড় ছেড়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অবস্থান ছেড়ে ফিরে যান তারা।জানা গেছে, এদিন জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা।
প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় বিভাগের দাবি সম্বলিত টি-শার্ট, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে নোয়াখালীকে দ্রুত বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নোয়াখালীকে বিভাগ করা হলে বৃহত্তর এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলেও তারা মনে করেন। আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা। বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ করার দাবি নতুন নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচি হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদেও নোয়াখালীকে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ করার দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। পরে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও সংসদে এ দাবি নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে এবং নোয়াখালী চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে কি না, সেটিই এখন নজরে থাকবে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিয়ে সড়কের মাঝ থেকে অবস্থান ছেড়ে আন্দোলনকারীরা চলে গেলে এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জ/বা