বিল উত্থাপন নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই এ ঘটনা ঘটে।
সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
পরে বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। এসব বিলের উত্থাপন ও পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধীদলীয় সদস্যরা রাত ৮টা ৬ মিনিটে সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। এ ছাড়া সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন করে বিল আনার কথা জানিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি বিল পাস করা হয়। তখন সরকার জানিয়েছিল, অধিকতর যাচাই-বাছাই করে মানবাধিকার কমিশন আইনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এরপর ১০ আগস্ট অনুমোদন দেওয়া হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া।
তবে দুটি আইনের খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিভিন্ন পক্ষ।
এই প্রেক্ষাপটেই বিল দুটি সংসদে উত্থাপনের দিন বিরোধীদলের ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটল।
জ/শা