অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা বর্তমানে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ালেও তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অভিনয় তার নিজের স্বপ্ন ছিল না; বরং মায়ের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতেই ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের পথে হাঁটেন।
মহিমার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় স্কুল শেষে নিয়মিত অডিশনে যেতেন। অভাবের দিনে তার মা নিজের একটি বাড়ির স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, আর সেই স্বপ্নই তাকে কঠোর পরিশ্রমের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’র সেটে এক পরিচালকের অপমানজনক মন্তব্য তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। পরে ২০১২ সালে ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ধারাবাহিকটির সাফল্যের পর ১৪ বছর বয়সেই তিনি মায়ের জন্য প্রথম বাড়ি ও একটি গাড়ি কেনেন।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পেলেও চলচ্চিত্রে সুযোগ পেতে তাকে বহুবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে। ‘টিভির অভিনেত্রী’ পরিচয়ের বাধা পেরিয়ে ২০২১ সালে সালমান খানের ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। মহিমা বলেন, সিনেমাটি মুক্তির পর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেলেও এর পেছনে ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের কঠোর পরিশ্রম।
প্রথম বাড়ি কেনার ১১ বছর পর গত বছর মুম্বাইয়ে আরও বড় একটি বাড়ি কেনেন তিনি। তেলুগু চলচ্চিত্র, ওটিটি সিরিজ ‘শোটাইম’ এবং নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে ২৬ বছর বয়সেই দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সাফল্য উদ্যাপন করছেন এই অভিনেত্রী।
তবে ব্যক্তিগত জীবনে বাবাকে না পাওয়ার আক্ষেপ এখনো তাকে কষ্ট দেয়। মহিমা বলেন, বাবার সান্নিধ্য কেমন, তা তিনি কখনো অনুভব করতে পারেননি। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
জ/উ