নিউজ ডেস্ক

জাতীয়

2026-05-06T18:59:45+06:00
2026-05-06T18:59:45+06:00
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে : প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম 
প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশটির দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়ায় এখনো তা সম্ভব হয়নি। শর্তগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলবে। বুধবার দুপুরে প্রবাসী ভবনে আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে অতীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সফর হয়েছে। কিন্তু বাজার এখনো খোলা যায়নি। মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল। ওই শর্ত অনুযায়ী এজেন্সির তালিকা করলে মাত্র ছয় থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা অর্জন করে। পরে মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ৭টি শর্ত মেনে নেবে। তখন ৪২৩টি এজেন্সির একটি তালিকা করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০টি শর্ত পুরোপুরি মানলে বাংলাদেশের অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকার বাইরে চলে যায়। সে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও তৎপরতার মাধ্যমে শর্তগুলো নিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। পরে ৬টি মূল শর্তের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু মানদণ্ড মিলিয়ে যেসব এজেন্সি যোগ্যতা অর্জন করে, তাদের নিয়ে ৪২৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।


প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হলেও এর মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০টির কার্যক্রমের যোগ্যতা নেই। বাকিগুলোর মধ্যেও কিছু লাইসেন্সধারী এজেন্সি প্রতারণা বা স্ক্যামের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য এজেন্সিগুলোর ফাইলের ব্যাপক তদবির আসছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কম্বোডিয়ার অবস্থা অর্থনৈতিক দিক থেকে খুব ভালো নয়। দেশটি আমাদের চেয়ে খুব বেশি উন্নতও নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কম্বোডিয়ার ফাইল নিয়ে ব্যাপক তদবির হচ্ছে। বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তি, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক ও বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে এসব তদবির আসে- ফাইল ছাড় দেওয়ার জন্য।

রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেকেই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের সুপারিশ করছেন বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। আরও ৪০ থেকে ৫০টি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো এমপি বা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা নিজেদের এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, কিন্তু সেখানে আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে না।


তিনি বলেন, দেশে ১১০টি ট্রেনিং সেন্টার থাকলেও অনেক জায়গায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার মতো লোক পাওয়া যায় না। প্রকৃত অর্থে এমন অনেক কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণার্থী- কোনোটিরই যথেষ্ট উপস্থিতি নেই। সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে অনেক এমপি ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে যাচাই করলে দেখা যায়, অনেক স্থানে এসব ট্রেনিং সেন্টারের প্রয়োজন নেই। উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় বা তদবিরের কারণে সুপারিশ দেওয়া হয়। তবে আমরা এখন চেষ্টা করছি, যেসব ট্রেনিং সেন্টারে চাহিদা আছে, সেগুলোকে আরও আধুনিক ও সুসজ্জিত করে সুবিধা বাড়াতে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দিয়েছেন।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজিয়া হায়দার, হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক প্রেমাংশু শেখর সরকার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক।

জ/দি





Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]