স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও ওজন বাড়ার ৭ কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফ স্টাইল

2026-09-24T20:58:08+06:00
2026-09-24T20:58:08+06:00
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
লাইফ স্টাইল
স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও ওজন বাড়ার ৭ কারণ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অর্থ এই নয় যে ওজন মাপার যন্ত্রের কাঁটা সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করবে। বাড়িতে রান্না করা খাবার, বেশি ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং ফাস্টফুড এড়িয়ে চলার পরও কারও কারও ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এর পেছনে খাবারের ক্যালোরি ছাড়াও ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক কার্যকলাপ, হরমোন এবং কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন বাড়ার সম্ভাব্য কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক-

১. খাবারের পরিমাণ আপনার ধারণার চেয়ে বেশি হতে পারে
স্বাস্থ্যকর খাবারও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বাড়তে পারে। বাদাম, বীজ, পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো, গোটা শস্য, পনির ও রান্নার তেলের মতো খাবার পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে তুলনামূলকভাবে ক্যালোরি বেশি থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, সালাদে অতিরিক্ত বাদাম বা ড্রেসিং যোগ করলে খাবারের মোট ক্যালোরি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যদিও খাবারটি দেখতে খুব ভারী নাও মনে হতে পারে। ‘হ্যান্ডবুক অফ ইটিং অ্যান্ড ড্রিংকিং’ জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাবার স্বাস্থ্যকর হলেও এর পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে খাওয়া এবং ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতির দিকে মনোযোগ দেওয়া অনিচ্ছাকৃত অতিরিক্ত খাওয়া ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।

২. স্বাস্থ্যকর নাস্তাও যোগ হয়ে যেতে পারে
ঘন ঘন নাস্তা করাও অপ্রত্যাশিত ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। গ্রানোলা, প্রোটিন বার, স্মুদি, শুকনো ফল ও দইয়ের মতো খাবার পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে ধারণার চেয়ে বেশি ক্যালোরি থাকতে পারে।

দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খেলে মোট ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রকৃতপক্ষে ক্ষুধা না থাকলেও খাওয়া হয়। তাই খাবার গ্রহণের সময় নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে-ক্ষুধার কারণে খাচ্ছেন, নাকি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ কিংবা খাবার হাতের কাছে থাকার কারণে খাচ্ছেন?

৩. আগের তুলনায় কম নড়াচড়া করছেন
ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শারীরিক কার্যকলাপও গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন চলাফেরা কমে গেলে শরীরের ক্যালোরি ব্যবহারের পরিমাণও কমতে পারে।

আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করলেও দিনের বেশিরভাগ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা, বাড়ি থেকে কাজ করা, গাড়িতে বেশি যাতায়াত করা কিংবা দীর্ঘ সময় সোফায় বসে থাকার কারণে সামগ্রিক শারীরিক কার্যকলাপ কমে যেতে পারে। বেশি হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ঘরের কাজ করা এবং কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাস দৈনন্দিন চলাফেরা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ক্ষুধা বাড়তে পারে এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

অপর্যাপ্ত ঘুম দিনের বেলায় ক্লান্তি তৈরি করতে পারে, যার কারণে শারীরিক কার্যকলাপও কমে যেতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

৫. মানসিক চাপ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বিভিন্নভাবে ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে। কেউ কেউ মানসিক চাপে বেশি খাবার খান, বিশেষ করে বেশি চর্বি, চিনি বা ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন।

মানসিক চাপ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং ব্যায়ামের আগ্রহও কমিয়ে দিতে পারে। স্ট্রেস, ওজন ও কর্টিসল হরমোনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা থাকলেও শুধু কর্টিসলকে ওজন বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ ও সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্যের পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, রিলাক্সেশন কৌশল, শখের চর্চা, সামাজিক যোগাযোগ এবং পর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

৬. হরমোনজনিত সমস্যা বা শারীরিক অসুস্থতা
কখনও কখনও ধারাবাহিক ওজন বৃদ্ধি শুধু খাবার গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত নাও হতে পারে। কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা শরীরের ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে কিংবা ওজন কমানো কঠিন করে তুলতে পারে।

যেমন, থাইরয়েড গ্রন্থির নিষ্ক্রিয়তার কারণে ক্লান্তি, অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বৃদ্ধির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PMOS)-এর সঙ্গেও ওজন বৃদ্ধি ও ওজন কমাতে অসুবিধার সম্পর্ক থাকতে পারে।

এ ছাড়া কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ওজন যদি ক্রমাগত বা ব্যাখ্যাতীতভাবে বাড়তে থাকে, বিশেষ করে এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৭. ওজন মাপার যন্ত্র পুরো চিত্র তুলে ধরে না
শরীরে পানি জমা, লবণ গ্রহণ, হরমোনের ওঠানামা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পরিপাকতন্ত্রে খাবারের উপস্থিতি এবং ব্যায়ামের পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন শরীরের ওজন কমবেশি হতে পারে।

আবার শক্তি প্রশিক্ষণ শুরু করলে শরীরের চর্বি কমার পাশাপাশি পেশির পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে শরীরের গঠন পরিবর্তন হলেও ওজন একই থাকতে পারে। তাই ওজন মাপার যন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার দিকে নজর দেওয়া বেশি তথ্যবহুল হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কোমরের মাপ, পোশাকের ফিটিং, ফিটনেসের মাত্রা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচকও শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে অতিরিক্ত ধারণা দিতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শরীরের ওজন একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। খাবারের পরিমাণ, নাস্তা, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, মানসিক চাপ, ওষুধ, শারীরিক অসুস্থতা এবং শরীরের গঠনের পরিবর্তন-সবকিছুই ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

জ/উ





Advertisement
Loading...
Loading...
লাইফ স্টাইল - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]