‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় গঠিত ‘স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটি’ (এসপিডিসি)-র বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রিয়াদে একত্রিত হতে যাচ্ছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তিন দেশের মধ্যে চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির অংশ নেবেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রতিনিধিদলে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু।
বৈঠকে অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং মক্কা চুক্তির আওতায় চলমান সহযোগিতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। হাকান ফিদান জোটটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং মিত্র দেশগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি।
সাম্প্রতিক হুথি হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বেও ফিদান জোর দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিটির লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তিন দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমাধানের পথ তৈরি করা। চুক্তির আওতায় নেওয়া কার্যক্রম তদারকির জন্য এসপিডিসি গঠন করা হয়। কমিটিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফরা রয়েছেন।
গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জোটটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং রিয়াদে এর সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন মৌলিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তান জানিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখার বিষয়ে দেশটির প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। সূত্র: রয়টার্স, গাল্ফ নিউজ
জ/উ