ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় যতই এগিয়ে আসছে, গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতাও বাড়ছে। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ০৭ নম্বর সাতপাড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্তমান মেম্বার বেলাল হোসেন। ইতোমধ্যে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ফেস্টুন ও ব্যানার টানিয়েছেন।
বেলাল হোসেন বলেন, সাতপাড় ইউনিয়ন হিন্দু সম্প্রদায়-প্রধান হলেও সেখানে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সুখে-দুঃখে ও বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। ইউনিয়নের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইউনিয়নবাসী তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে সাতপাড়কে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। মানুষের সেবা করাই তাঁর ব্রত। পাশাপাশি ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, মুকসুদপুর উপজেলার ১২ নম্বর গোহালা ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মহিলা সদস্য লাইলী বেগম বুড়ী আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং ফেস্টুন ও ব্যানার টানিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
লাইলী বেগম বুড়ী বলেন, তাঁর স্বামী মরহুম সিদ্দিকুর রহমান গোহালা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন এবং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বাবা ও ভাইও গোহালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ইউনিয়নের জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে গোহালা ইউনিয়নকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইউনিয়নের নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে রাস্তা-ঘাট ও হাটবাজারের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেবেন। সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়নই তাঁর লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এদিকে কাশিয়ানি উপজেলার ০৭ নম্বর ফুকরা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন সরদার মোহাম্মদ রাসেল। তিনি বলেন, ফুকরা ইউনিয়নের উন্নয়ন, তারুণ্য ও অগ্রযাত্রাকে সামনে রেখে তিনি কাজ শুরু করেছেন। শিক্ষিত তরুণ সমাজ গড়ে তোলা, বেকারত্ব নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
সরদার মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তাঁর বাবা মরহুম স. ম. ইস্রাফিল ফুকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। সাধারণ মানুষের সেবা এবং উন্নত ও সমৃদ্ধ ফুকরা ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান। দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ফুকরা ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সচেষ্ট থাকবেন। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তুলে ধরে প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচিত হলে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে তিনি বদ্ধপরিকর বলেও জানান।
অন্যদিকে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ০৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের ছাত্রদল সভাপতি মিহির কবিরাজও আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি বিএনপির দলীয় সমর্থন কামনা করছেন।
মিহির কবিরাজ বলেন, ইউনিয়নবাসী তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে মানুষের সেবার পাশাপাশি গোপালপুরকে একটি সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।
জ/উ