প্রকৃতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শোভাযাত্রা, মনিপুরী নৃত্য ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ট্যুরিজম কমলগঞ্জ’।
সকাল ১১টায় জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটক থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষে উদ্যানের বিভিন্ন স্থান থেকে প্লাস্টিকসহ বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এবারের দিবসের ভাবনা ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে পারে। পর্যটকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পর্যটন সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, লাউয়াছড়ার মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলে প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
ট্যুরিজম কমলগঞ্জের সভাপতি সাব্বির এলাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল নাঈম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল এস পলাশ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) প্রজিত কুমার দাশ, বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম এবং কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে প্রকৃতি সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে কমলগঞ্জের পর্যটন সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
জ/শা