নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি) জানিয়েছে, দেশটির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার হুমকি হিসেবে চীনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার অংশ এনসিএসসির বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাইবার হামলা ও হ্যাকিংয়ের কারণে নিউজিল্যান্ডের সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল তথ্য গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
চীনের পাশাপাশি রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর দিকেও সন্দেহজনক সাইবার কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই চার দেশের মধ্যে চীনের পিপলস রিপাবলিক অব চায়নাকে নিউজিল্যান্ডে সাইবার অপরাধের সবচেয়ে সক্রিয় ও সক্ষম পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে নিউজিল্যান্ডের সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির অভ্যন্তরে বড় পরিসরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য চুরির মতো কার্যক্রম পরিচালনাকারী একমাত্র রাষ্ট্র চীন।
নিউজিল্যান্ডের এসব অভিযোগের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচিত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি বন্ধ করা। একই সঙ্গে চীন ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, চীন সবসময় আইন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সাইবার হামলার বিরোধিতা করে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
এনসিএসসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ৩৬৯টি সাইবার ঘটনার মধ্যে ৮৬টির সঙ্গে কোনো না কোনো বিদেশি রাষ্ট্রীয় মদদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সরকারি সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এনসিএসসি বলেছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার নজরদারি কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ ধরনের সাইবার হামলা ওই অঞ্চলের নাগরিক, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
জ/উ