সরকারি সেবায় প্রধান মাধ্যম হবে একক ডিজিটাল আইডি

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-23T16:33:52+06:00
2026-09-23T16:33:52+06:00
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
সরকারি সেবায় প্রধান মাধ্যম হবে একক ডিজিটাল আইডি
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় বা ডিজিটাল আইডিই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রেহান আসাদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে তা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিপিআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্যানেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুষ্ঠানে রেহান আসাদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়ন করতে চাই।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। রেহান আসাদ বলেন, ‘আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি। এতে সময় লাগবে, কোনো শর্টকাট নেই। তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছি।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিপিআই ব্যবস্থা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে আন্তঃকার্যক্ষম করা যায়, বিশেষ করে সীমান্তের বাইরে এসব ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপিআইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করা হয়। এআই কীভাবে ডিপিআইকে সহায়তা করতে পারে এবং ডিপিআই কীভাবে এআই-নির্ভর সেবার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, তা আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

নিজস্ব ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার ‘এক্স-রোড’ নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান রেহান আসাদ। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল উদ্যোগের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্তপারের (ক্রস-বর্ডার) ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানানো হয়। অন্যদিকে রুয়ান্ডা সরকারি সেবা গ্রহণের পাশাপাশি পূর্ব আফ্রিকায় সীমান্তপারের পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল আইডেন্টিটি ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। ইইউর সাধারণ মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি সদস্যদেশ অন্তত একটি করে ওয়ালেট চালু করবে। এসব ওয়ালেটের মাধ্যমে নাগরিকরা নিরাপদে নিজেদের পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি দেশের বাইরেও ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে পারবেন।

রেহান আসাদের মতে, রুয়ান্ডার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। একই সঙ্গে আঞ্চলিক আন্তঃকার্যক্ষমতার মাধ্যমে এক দেশের নাগরিকরা অন্য দেশেও নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ডিপিআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে নিরাপদভাবে এসব অবকাঠামো ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।

জাতিসংঘের বৃহত্তর ডিপিআই সুরক্ষা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুশাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবা প্রদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন রেহান আসাদ। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিকের বিষয় নয়। ভবিষ্যতে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।’

বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]