দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪ শতাংশ, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

জবাবদিহি ডেস্ক

অর্থনীতি

ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ শতাংশে উঠতে পারে। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একাধিক সংঘাতসহ নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি। সেইসঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে মূল্যস্ফীতি।

2026-09-23T16:18:50+06:00
2026-09-23T16:18:50+06:00
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অর্থনীতি
দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪ শতাংশ, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ শতাংশে উঠতে পারে। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একাধিক সংঘাতসহ নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি। সেইসঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে মূল্যস্ফীতি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ বা এশিয়ার উন্নয়নবিষয়ক পূর্বাভাসে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও কিছুটা গতি পাবে।

এডিবির হিসাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে, এই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছিল, যদিও এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। এর ফলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

তবে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও ঝুঁকিমুক্ত পর্যায়ে নেই দেশের অর্থনীতি। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি এখনো বাহ্যিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এই সংস্কারগুলো অপরিহার্য।

এডিবি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আনুমানিক ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সংস্থাটির মতে, জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুমানিক ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জোরালো রেমিট্যান্স ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে; তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষিখাত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ ঋণ গ্রহণের ব্যয়, ঋণ প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা এবং অন্যান্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত সীমিত পরিসরে থাকতে পারে। রেমিট্যান্স-নির্ভর বেসরকারি ভোগ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে থাকবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকা এবং ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।



জ/বা




  বিষয়:   অর্থনীতি  এডিবি  মূল্যস্ফীতি 



Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]