জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের উপস্থিতি

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-22T17:15:56+06:00
2026-09-22T17:15:56+06:00
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের উপস্থিতি
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেই মঞ্চে বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন সময় যেন এবার একসূত্রে মিলিত হতে যাচ্ছে। চার দশকের বেশি সময় আগে যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বব্যবস্থার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও উন্নয়নবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, পরবর্তী সময়ে একই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের হয়ে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁর এই ভাষণ জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

ঘটনাটিকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর বা নিয়মিত কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পুরোটা ধরা পড়ে না। এর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, বৈশ্বিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা এবং একটি রাজনৈতিক পরিবারের তিন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতির ধারাবাহিকতা জড়িয়ে রয়েছে।

শুরু ১৯৮০ সালে
এই ধারাবাহিকতার প্রথম অধ্যায় শুরু হয় ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সে সময় বিশ্ব অর্থনীতি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে বৈষম্য ছিল আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান প্রশ্ন তুলেছিলেন-বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও সহযোগিতার নানা প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে থাকবে?

তাঁর সেই বক্তব্য শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রতিফলন ছিল না। এর সঙ্গে সে সময়কার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-ভাবনার বড় বিতর্কও যুক্ত ছিল।

একদিকে ছিল আধুনিকায়ন তত্ত্ব। ডব্লিউ. ডব্লিউ. রস্টোর ‘স্টেজেস অব ইকোনমিক গ্রোথ’ বা প্রবৃদ্ধির পর্যায় তত্ত্বের মতো ধারণায় বলা হতো, উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি উন্নত বিশ্বের অনুসৃত অর্থনৈতিক কাঠামোর পথে অগ্রসর হয় এবং প্রয়োজনীয় পুঁজি, প্রযুক্তি ও বৈদেশিক সহায়তা পায়, তাহলে ধীরে ধীরে তারা অর্থনৈতিক ‘টেক-অফ’-এর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে নির্ভরশীলতা তত্ত্ব বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও প্রান্তের অসম সম্পর্ককে সামনে আনে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈষম্যের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই বিতর্কের আন্তর্জাতিক প্রতিফলন হিসেবে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা এনআইইও ঘোষিত হয়। পরবর্তী সময়ে উত্তর-দক্ষিণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তর আলোচনা হয়। ১৯৮০ সালের জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তখন বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, দারিদ্র্যপীড়িত ও খাদ্যসংকটে থাকা একটি নবীন রাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রভাবও তখনো গভীর ছিল। প্রায় সাড়ে নয় কোটি মানুষের দেশটির সামনে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারির প্রশ্ন গুরুত্ব পায়। তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা, ঋণ, জ্বালানি ও বাজারসুবিধার ক্ষেত্রে আরও ন্যায্য ব্যবস্থা চেয়েছিলেন। দরিদ্র দেশগুলোর ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চাপ কমাতে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে—এমন ধারণাও তিনি তুলে ধরেছিলেন।

তাঁর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আত্মনির্ভরতার ধারণা। তাঁর কাছে আত্মনির্ভরতা বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নয়; বরং নিজেদের উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সমান মর্যাদায় অংশগ্রহণ করা।

অর্থাৎ একদিকে তিনি বৈশ্বিক সহযোগিতা ও ন্যায্য বাণিজ্যের কথা বলেছেন, অন্যদিকে দেশের কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর আন্তর্জাতিক বক্তব্যকে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল।

দ্বিতীয় প্রজন্মে খালেদা জিয়া
জিয়াউর রহমানের সেই বক্তব্যের প্রায় ১৩ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

এরপর ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক অধিবেশন, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম সাধারণ অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনে বক্তব্য দেন তিনি। অর্থাৎ ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে জাতিসংঘের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।

এবার তৃতীয় প্রজন্ম
এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে তৃতীয় প্রজন্ম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেবেন তিনি।

সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাবে।

বিষয়গুলোর দিকে তাকালে ১৯৮০ সালের বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৬ সালের বাংলাদেশের বাস্তবতার পার্থক্যও স্পষ্ট হয়।

জিয়াউর রহমানের সময়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়ের আলোচনায় খাদ্য, তেল, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল প্রধান প্রশ্ন। চার দশক পর সেই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন নিঃসরণ, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বৈষম্য, জলবায়ু অর্থায়ন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো নতুন বাস্তবতা।

জলবায়ু ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘Climate Action and the Just Transition’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি শুধু পরিবেশনীতি-সংক্রান্ত নয়। উপকূলীয় এলাকার মানুষের বসতি, কৃষি, পানির নিরাপত্তা, জীবিকা ও অভিবাসনের সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশটির ঝুঁকি অনেক বেশি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি-এসবের সম্মিলিত প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের উন্নয়নকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ফলে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য দায়বণ্টনের প্রশ্ন বাংলাদেশের কূটনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখানে ১৯৮০ সালের উন্নয়ন-ন্যায়ের প্রশ্নটি নতুন প্রেক্ষাপটে ফিরে আসে। তখন দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ন্যায্য বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহায়তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন ছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেছে, তাদের অভিযোজনের ব্যয় কে বহন করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কীভাবে নিশ্চিত হবে?

প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার
প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও নতুন প্রযুক্তি দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো পরিবর্তন করছে। কিন্তু এসব প্রযুক্তির সুফল সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা, অবকাঠামো ও অর্থায়নে বৈষম্য তৈরি হলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন ধরনের কেন্দ্র-প্রান্ত সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

এ কারণে প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দাবি হয়ে উঠছে।

রোহিঙ্গা সংকট
তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রোহিঙ্গা সংকট। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। প্রায় নয় বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। ফলে সংকটটি এখন শুধু মানবিক সহায়তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও যুক্ত হয়েছে।

২০২৬ সালে জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন জানিয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের অবস্থানও দীর্ঘদিনের-রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অবস্থান আবারও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই অধিবেশনে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের আরেকটি বিশেষ দিক রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯ ভোট পান। এর মধ্য দিয়ে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়েছেন।

ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের জন্য এই সমাপতন কূটনৈতিকভাবে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তিন প্রজন্ম, তিন সময়
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জাতিসংঘ অধিবেশনকে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের সামনে ছিল যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখা, খাদ্য ও দারিদ্র্যের সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ন্যায্য অংশীদারি নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

১৯৯০-এর দশক ও পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সময়ে বাংলাদেশের সামনে ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপরিচয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির প্রশ্ন।

আর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের সামনে রয়েছে ভিন্ন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা-জলবায়ু সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার।

তিনটি সময়কে পাশাপাশি রাখলে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়বস্তুর পরিবর্তনও দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে।

১৯৮০ সালে যে কণ্ঠ বৈশ্বিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল বিশ্বের ন্যায্য অধিকারের কথা বলেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই আন্তর্জাতিক উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বহন করেছেন খালেদা জিয়া। এবার সেই ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়ে প্রবেশ করছেন তারেক রহমান।

তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ তাই অতীতের উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশার একটি সংযোগস্থল হিসেবে সামনে আসছে। তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে কতটা নতুন নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, বাংলাদেশের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলো কীভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে এসব অবস্থান কতটা কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেয়-সেটিই হবে সফরের বাস্তব তাৎপর্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

জাতিসংঘের মঞ্চে সেদিন বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের বিভিন্ন প্রশ্ন-গণতন্ত্র, উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, প্রযুক্তিতে সমতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কার্যকর বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা-উঠে আসার কথা।

জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় ২৪ সেপ্টেম্বর তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন সময়কে একই বৈশ্বিক মঞ্চে যুক্ত করার একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]