জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর হওয়ায় এটিকে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রবাসী নেতারা। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে যে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল সেটি বাতিল করা হয়। মূলত প্রায় ৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করতেই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। যদিও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।
এদিকে সংবর্ধনা আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণও সামনে এসেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণেও এ সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কারণ কে আয়োজনে থাকবেন, কারা প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাবেন, কোন অঙ্গরাজ্য থেকে কতসংখ্যক নেতা-কর্মী আনা হবে- এসব নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে যে টানাপড়েন রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সেটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, নিউইয়র্ক ছাড়াও নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিউইয়র্কে আনার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নিজেদের অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
প্রথমদিকে কনস্যুলেট ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা আয়োজনের আলোচনা থাকলেও আপাতত সেটা হচ্ছে না। মূলত প্রায় পাঁচ কোটি (চার লাখ মার্কিন ডলার) টাকা সাশ্রয় করতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠান হতে পারে বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার ও কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এবিসিসিআই)-এর চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ বলেন, নাগরিক সংবর্ধনার বিষয়টি এখনো কনফার্ম হয়নি। কারণ, একটা অনুষ্ঠান করতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লাখ ডলার খরচ হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী এত টাকা খরচ করে সংবর্ধনা নিতে চাচ্ছেন না। হয়তো দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে দেখা করবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরটি স্মরণীয় করে তুলতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
এদিকে সরকারি খরচে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন বাতিল হলেও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিকল্প নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের চেষ্টা করছে কয়েকটি গ্রুপ। মূলত লন্ডনভিত্তিক বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খোকনকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় তার সাথে নিউইয়র্ক বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন গ্রুপ আলাদাভাবে আয়োজনের চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, সিনিয়র নেতা জাকির এইচ চৌধুরী, এল আর বাদল, ডা. হামিদ, নাছিম আহমদ, আলহাজ্ব সোলাইমান ভূঁইয়া, তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত এজিএস আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারদের মতো আরো অনেক নেতার সাথে সমন্বয় না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আনোয়ার হোসেন খোকন তার বলয়ে থাকা জিল্লুর রহমান জিল্লু, আব্দুল লতিফ সম্রাট ও মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টনসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে গ্রুপিং করার অভিযোগে অপর সিনিয়র কোনো নেতা তার সাথে কাজ করতে নারাজ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়তই তার বিরুদ্ধে লেখালেখি হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমরা অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষায় আছি আমাদের প্রিয় নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে উষ্ণ সংবর্ধনা দেব। কিন্তু এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না পেয়ে অনেকটা অন্ধকারে রয়েছি। আমরা সিনিয়র নেতাদের সাথে পরামর্শ করে অবশ্যই প্রিয় নেতাকে বরণের সব চেষ্টা করব।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাধিক বিএনপি নেতা জানান, এই নাগরিক সংবর্ধনা শুধু একজন সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও সুযোগ। কিন্তু শুধুই কি অর্থ সাশ্রয়ের কারণেই কি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ কি শুধুই ব্যয়ের হিসাবেই নির্ধারিত হবে? এর আগে গত বছর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সময় এনআরবি প্রোগ্রামে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তৎকালীন সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেছিলেন।
এসব আলোচনার মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাই এবার যদি সেই প্রোগ্রাম না হয়, তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ, সমস্যা, প্রত্যাশা ও সুপারিশ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এ ছাড়া প্রবাসীরা শুধু অর্থের উৎস নন; তাঁরা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কূটনীতি ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাতিলের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততার মূল্যও বিবেচনা করা উচিত।
তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে আসার পর দেশের মানুষ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন। তাঁরা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানে এবার একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের একটি বড় সুযোগ যদি কেবল কয়েক লাখ ডলার ব্যয়ের কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান বলেন, ‘বিশেষ কারণে কনস্যুলেটের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনাটি বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, নাগরিক সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘে ভাষণের সময় স্বাগত কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বড় পরিসরে নাগরিক সভা করার যে প্ল্যান ছিল সেটা আপাতত হচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আলাপ করতে আমি এখন (সোমবার) নিউইয়র্ক যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে দেখব কি করা যায়, কিভাবে করা যায়।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দেখভালের দায়িত্ব পাওয়া দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে প্রোগ্রাম আয়োজন কেন্দ্রিক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। গত তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে তিনি নিউইয়র্ক উত্তর, নিউইয়র্ক দক্ষিণ ও নিউইয়র্ক ইস্ট বিএনপির তিনটি আংশিক কমিটি ঘোষণা দেন তিন বছর আগে। কিন্তু এরই মধ্যে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি কোনো কমিটি। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র কয়েকজন নেতাকে নিয়ে আংশিক কাঠামোতেই চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন নিউইয়র্কের বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী।
নেতা-কর্মীদের দাবি, নিউইয়র্কের বিভিন্ন পর্যায়ের শত শত ব্যক্তির কাছ থেকে পদ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন, তিন বছর আগে কমিটি ঘোষণার পরও কেন তা পূর্ণাঙ্গ করা হলো না? পদ দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেই অর্থের হিসাবই বা কোথায়? আর যারা অর্থ দিয়ে পদ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের প্রতিশ্রুতির কী হলো? অভিযোগকারীদের আরো দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল সভায় আনোয়ার হোসেন খোকনকে ‘কমিটি নিয়ে কেউ ঝামেলা করবেন না’ এমন আহ্বান জানাতে শোনা গেছে।
তার এ বক্তব্যের পরই নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পরিবর্তে কেন প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে? নিউইয়র্ক বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কমিটি বছরের পর বছর আংশিক অবস্থায় পড়ে থাকা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে পদ-পদবি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনটি কমিটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করা এবং পদ দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অপরদিকে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শেখ অহিদুজ্জামান তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আনোয়ার হোসেন খোকনকে আমেরিকায় ‘নব্য গোলাম আযম’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি আনোয়ার হোসেন খোকনকে ‘জুম নেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আমেরিকার কোনো এক উগ্র আঞ্চলিক নেতা যিনি নিজেকে নব্য গোলাম আযম মনে করছেন তাঁকে বলছি- যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে সংগঠন ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্ত হয়, জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে আঞ্চলিকতার পরিচয় বড় হয়ে ওঠে এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাত বাড়ে— তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
তিনি আরো বলেন, দুঃখজনক হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসে যদি লন্ডনকেন্দ্রিক কোনো নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে প্রশ্ন করতেই হবে- যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কি যুক্তরাষ্ট্রের নেতা-কর্মীদের সংগঠন, নাকি দূরদেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো রাজনৈতিক প্রকল্প? আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কোনো জুম নেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কোনো স্টেট কমিটি কারও ব্যক্তিগত ব্যবসার ক্ষেত্র নয়। আর নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কারও ব্যক্তিগত আনুগত্যের বিনিময়ে নির্ধারিত হতে পারে না। যদি সত্যিই কোথাও পকেট কমিটি, পদ-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুবিধা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিনিময়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে সেসব অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি, উসকানি কিংবা সহিংসতার দিকে যায় তাহলে সেটি আর নিছক রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকে না। তখন প্রয়োজন প্রমাণ, তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে জানতে আনোয়ার হোসেন খোকনের মোবাইলে কল দিয়ে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন। পরে দুবার কল দিলেও আর রিসিভ করেননি।
প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সংগত কারণেই জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এই ভাষণটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এমন বাস্তবতায় ঠিকই প্রোগ্রামটি অনন্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে।
সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের দুজনের সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জ/রা