তারেক রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলের রাজনীতির সূচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ বুধবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার আয়োজনে ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন হাটে-মাঠে গিয়ে তরুণদের সংগঠিত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের বিএনপি রূপান্তরিত হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সেবা—এই তিনটি গুণের ধারক ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি সাহস করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করে মানুষের সেবা করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
বইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে মঈন খান বলেন, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে পাথর ও কাদার ওপর লেখার মাধ্যমে বইয়ের ইতিহাসের সূচনা। পরে মিশর, চীন ও রোমে বইয়ের রূপান্তর ঘটে। রোমে আধুনিক বইয়ের ধারণা বিকশিত হয় এবং ১৪৪০ সালে জার্মানিতে ছাপাখানা আবিষ্কারের মাধ্যমে বইয়ের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে ই-বুকের ধারণা যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য নেতৃত্বদানকারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে অনেক বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে পড়ার চর্চা হারিয়ে ফেলা যাবে না।
লাইব্রেরিকে জ্ঞানের ভাণ্ডার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিজেতারা কোনো অঞ্চলের সভ্যতা ধ্বংস করতে লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিয়েছে। মানবসমাজে বইয়ের গুরুত্ব বোঝার জন্য এ ইতিহাসই যথেষ্ট।
তিনি আরও বলেন, লেখাপড়া ছাড়া কোনো জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না। তাই বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হবে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরীসহ অনেকে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
জ/উ