মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর জীবন, কর্ম, নেতৃত্ব, গৌরবগাঁথা, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০২-এর আওতায় উত্থাপিত এক নোটিশে তিনি এ আহ্বান জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি হতাশ ও লজ্জিত হয়েছেন। তার ভাষ্য, অনুষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণরাই মূলত বক্তা ও শ্রোতা ছিলেন।
তিনি বলেন, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী সরকারিভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় এ ধরনের আয়োজন যথাযথভাবে হচ্ছে না। এমনকি স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে একটি লাইনও আছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় সংসদের মূল প্রবেশদ্বারের নাম ‘এম.এ.জি. ওসমানী গেট’ করার মাধ্যমে তার প্রতি জাতীয় ঋণ পরিশোধের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, একইভাবে পাঠ্যবইয়েও তাঁর জীবনসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব, কীর্তি, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উষালগ্নে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অবসর জীবনে চলে যাওয়ার বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
স্বাধীনতার পর সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেও জেনারেল ওসমানী জাতির সামনে আরেকটি নজির স্থাপন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নোটিশে জেনারেল ওসমানীর সামরিক জীবনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া ওসমানী সিলেটে পড়াশোনা শেষে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রনেতার দায়িত্বও পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ না দিয়ে ওসমানী সামরিক বাহিনীতে প্রবেশ করেন। ব্রিটিশ সরকারের জেন্টেলম্যান ক্যাডেট কোরে যোগ দিয়ে ১৯৩৯-৪০ সালে সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অংশ নেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যের কারণে ওসমানী দীর্ঘ সময় একই কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জেনারেল ওসমানীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ তাকে প্রার্থী করে এবং তিনি বিজয়ী হন। পরবর্তী সময়ে ক্যান্টনমেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। একই সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও প্রাথমিক বিদ্রোহেও নেতৃত্ব দেন।
নোটিশের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদ সদস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে জাতির একজন বীর সন্তানের কাহিনি সম্পর্কে জনগণ জানার সুযোগ পাবে।
স্পিকার জানান, নোটিশটি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সরাসরি মনিরুল হক চৌধুরীকে জবাব দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
জ/উ