কারাগারে চালু হচ্ছে বন্দিদের ভিডিও কল সুবিধা

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-05T13:45:15+06:00
2026-09-05T13:45:28+06:00
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
কারাগারে চালু হচ্ছে বন্দিদের ভিডিও কল সুবিধা
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম  আপডেট: ০৫.০৯.২০২৬ ১:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকাঙ্ক্ষা কিছুটা হলেও পূরণ করতে ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু করছে কারা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই দেশের সব কারাগারে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

নির্ধারিত নিয়ম মেনে একজন কয়েদি বা হাজতি সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট করে ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ব্যবস্থায় বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।

কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রমও চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিংসহ মানসিক উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। সেখানে উৎপাদিত সাবান বন্দি ও কারা স্টাফদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেরানীগঞ্জে একটি কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়ন করা হলে কারাগারগুলোর স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকে পানি সরবরাহ কার্যক্রমও চলছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাসসকে বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য অল্প সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতাও কমেছে।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসগুলোতে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নয়নে বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বন্দিদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি এবং বেকারির কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ও বিশেষ দিবস উপলক্ষে কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবসর-পরবর্তী কল্যাণের বিষয়টি প্রত্যাশা করে আসছিলেন। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন দেওয়ার প্রস্তাব সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো ঠেকানো, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদানের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ রয়েছে।

কারা অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, কারা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবলও অপরিহার্য।

কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ এবং মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

কারাগারকে স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেও সবুজায়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ এবং খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা গড়ে তোলার কাজ চলছে।

কারা অধিদপ্তরের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের ফলে কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান এবং বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। একই সঙ্গে পুরো কারা ব্যবস্থাপনা হবে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]