জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-08-20T11:10:45+06:00
2026-08-20T11:10:45+06:00
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ এএম 
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর আজ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর এবার একাধিক প্রার্থী সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশে গত তিন দশকে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই সাধারণত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পৃথক প্রার্থী দেওয়ায় সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এর আগে ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি ভোটে আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় প্রণয়ন করা হয় ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’। ওই আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ওপেন ব্যালটে ভোট নেওয়া হয়েছিল। বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় সংসদ বর্তমানে নিয়মিত অধিবেশনে না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করেছেন। গত ১১ আগস্ট ন্যূনতম সাত দিন সময় রেখে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা ও নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে দুটি এবং বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।

পরে ১৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহায়তায় প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মূল স্বাক্ষর রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর দুটি বৈধ মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যেই নির্বাচন হচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট কোনো প্রার্থীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

নির্বাচনের আগের দিন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর একই দিনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশে এই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সরাসরি বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার ক্রম নিয়ে কিছুটা ভিন্নতার ব্যাখ্যা দিয়ে সিইসি জানান, সংসদীয় সীমানার ক্রম অনুযায়ী পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবানে গিয়ে ৩০০ আসন শেষ হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোটগ্রহণ পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচন বা আসনটি শূন্য থাকায় ভোটার তালিকার বিভক্তি নম্বরে কিছুটা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে তা নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন।

আজ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা ভোটার হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সিইসি জানান, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। সে অনুযায়ী কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের সব সূচি নির্ধারণ করেছে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে সিইসি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন। পুরো ভোট গণনা প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচন ও ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

ভোটার ও প্রার্থীদের নাম ব্যালটপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় কার ভোট কে দিচ্ছেন, তা উপস্থিত সবার কাছে দৃশ্যমান থাকবে। ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান এবং ভোট গণনার পর্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সংসদ ভবনের অভ্যন্তরের পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের। তবে ভোটের দিন হাউজের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে অতিরিক্ত বা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিকে গুজব বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি জানান, সংসদের বৈঠক আহ্বানের মতো নিয়মিত কার্যক্রম এবং কিছু ব্যালট ও স্টেশনারি ছাড়া কমিশনের পক্ষ থেকে বড় কোনো অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় বা আলাদা বাজেট করা হয়নি।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে বিশেষ নজর রাখছে উল্লেখ করে সিইসি নাসির উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সক্ষম হবে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]