যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক (Forced Labor Tariff) এবার আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য মামলা করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আদালতের কাছে শুল্ক কার্যকর স্থগিত, এটিকে বেআইনি ঘোষণা এবং আদায় করা অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর পারস্পরিক (Reciprocal) শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে আদালতের এক রায়ে সেই শুল্ক বাতিল হয়। এরপর নতুন কৌশল হিসেবে গত ২৪ জুলাই ‘জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য’ আমদানির অভিযোগ তুলে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়, যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা প্রয়োগ করেছে। ওই ধারায় জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
তবে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এই শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ও আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের যে অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্কের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
ইউএসটিআরের ঘোষণায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের ওপর শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এদিকে নতুন এই মামলার জবাবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সরকারের পদক্ষেপ পুরোপুরি আইনসম্মত। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর অযৌক্তিক বোঝা হয়ে দাঁড়ানো বিভিন্ন নীতি ও চর্চা বন্ধ করতেই সরকার আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।
মামলায় অংশ নেওয়া ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টির গভর্নর ডেমোক্র্যাট, আর বাকি দুটি রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দাবি করা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার তদন্ত ছিল অজুহাতমূলক এবং বেআইনি। সেখানে আরও বলা হয়েছে, তদন্তগুলো তড়িঘড়ি করে শুরু করা হয়েছিল এবং শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত ছিল।
আবেদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, তারা জোরপূর্বক শ্রমের সম্পূর্ণ বিরোধী হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন এই ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে একটি বেআইনি শুল্কনীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাদের মতে, নতুন শুল্ক ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক এবং বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী।
জ/শা