পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য জানার কারণে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে হত্যা এবং তার স্ত্রী জেবুন্নাহার ও দুই শিশুকন্যাকে গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একদিন জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের আগে মেজর জাহিদুল ইসলামের সেখানে পোস্টিং হওয়ার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই হত্যাকাণ্ডের দিন তার কোর্সমেট ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দার ফোনে তাকে ঘটনার বিবরণ দেন এবং মেজর জাহিদ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে তার জানাশোনার কারণেই তাকে নজরদারিতে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস শুরু করেন মেজর জাহিদ। ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে রূপনগরের বাসা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই রাতে তার স্ত্রী জেবুন্নাহার ও দুই শিশুকন্যাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে জেবুন্নাহারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাদের কয়েক মাস গুম করে রাখা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
গত বছরের ১০ আগস্ট জেবুন্নাহার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। এতে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, তৎকালীন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন ডিসি মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিবির তৎকালীন ডিসি কৃষ্ণ পদ রায়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
জেবুন্নাহার অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে দুটি এবং নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি জঙ্গি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
এদিকে, জেবুন্নাহার বলেন, তার স্বামীকে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, তার ভাই জাহিদুল হক মজুমদার দাবি করেন, মেজর জাহিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল। পরে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
জ/উ